পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য বীমার অভাব পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে: কেয়ার হেলথ ইনস্যুরেন্স

8e4f149a-5bb6-4b12-bb2e-8e83525829ed

কলকাতা: ভারতের লক্ষ লক্ষ পরিবারের ক্ষেত্রে কোনো জটিল বা গুরুতর অসুস্থতা এখন বহু বছরের জমানো সঞ্চয় নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যদিও দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক কোনো না কোনো স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের আওতাভুক্ত, তবুও অধিকাংশ পরিবারেরই পর্যাপ্ত বীমা সুরক্ষা নেই। জটিল রোগের চিকিৎসার খরচ বিদ্যমান বীমা সুরক্ষার সীমাকে অনেক ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক বোঝা ক্রমশ বাড়ছে।
কেয়ার হেলথ ইন্স্যুরেন্স পরিবারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা স্বাস্থ্য বীমাকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে, বরং চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতির আর্থিক প্রভাব থেকে সুরক্ষার একটি অপরিহার্য মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে। অধিকাংশ মানুষই বীমা কেনার পর তা আর পর্যালোচনা করেন না অথবা শুধুমাত্র নিয়োগকর্তার দেওয়া ‘গ্রুপ হেলথ পলিসি’-র ওপরই নির্ভর করে থাকেন।
২ থেকে ৫ লক্ষ টাকার যে বিমা কভারেজ কয়েক বছর আগেও যথেষ্ট বলে মনে হতো, তা এখন কোনো জটিল রোগের চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই নিঃশেষ হয়ে যায়। ফলে পরিবারগুলোকে সম্পদ বিক্রি করতে অথবা ঋণ নিতে বাধ্য হতে হয়।
​’ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টস এস্টিমেটস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৪৩.৪ শতাংশই পরিবারগুলোকে এখনও নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হয়। পাশাপাশি, ‘ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস’-এর একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায় যে, বিমার আওতাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালে ভর্তিসংক্রান্ত খরচের বড় অংশই রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে মেটাতে হয়।
একটি লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য ১৮ লক্ষ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়; এছাড়া ক্যানসার ও হৃদরোগজনিত জটিল চিকিৎসার ক্ষেত্রেও কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়ে থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে, কেয়ার হেলথ ইন্স্যুরেন্স পরামর্শ দিয়েছে যে—প্রতি বছর বিমার কভারেজ পর্যালোচনা করা উচিত, শুধুমাত্র নিয়োগকর্তার দেওয়া বিমার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়, এর পাশাপাশি একটি ‘সুপার টপ-আপ’ প্ল্যান যুক্ত করা প্রয়োজন এবং পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত কভারেজ নিশ্চিত করা জরুরি।

About Author

Advertisement