ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় সোনিয়া ও রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর

IMG-20251130-WA0114

ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় আরও বিপাকে সোনিয়া ও রাহুল গান্ধি। প্রতারণার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করল দিল্লি পুলিশ। সোনিয়া-রাহুল সহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং। উল্লেখ্য, ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় রাহুল ও সোনিয়ার বিরুদ্ধে ৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল আগেই। এ বার নতুন করে আরও একটি এফআইআর দায়ের হল। এই মামলায় টাকা তছরুপের তদন্ত করছে ইডি। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর রুজু করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি, ৪০৩, ৪০৬, ৪২০ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এফআইআরে রাহুল, সোনিয়া ছাড়াও নাম রয়েছে কংগ্রেস নেতা সুমন দুবে, স্যাম পিত্রোদার। সেই সঙ্গে কিছু সংস্থা, সংগঠনের নামও রয়েছে এফআইআরে। যেমন ইয়ং ইন্ডিয়ান, ডটেক্স মার্চেন্ডাইস লিমিটেড, ডটেক্সের প্রোমোটার সুনীল ভাণ্ডারি, অ্যাসোসিয়েটেড জার্নাল লিমিটেড এবং অজ্ঞাত পরিচয় কয়েক জন। দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইংয়ের অভিযোগ, কলকাতার ডোটেক্স মার্চেন্ডাইজ প্রাইভেট লিমিটেড ১ কোটি টাকা দিয়েছিল ইয়ং ইন্ডিয়াকে। সেই টাকাতেই অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড অধিগ্রহণ করা হয়। এই সংস্থার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০০০ কোটি টাকা। ইডি গত এপ্রিলে চার্জশিট জমা করেছিল আদালতে। সেখানেও নাম রয়েছে সোনিয়া, রাহুল-সহ বাকিদের। সেই চার্জশিট এখনও গ্রহণ করেনি আদালত। আগামী ১৬ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানি। কংগ্রেস ইডির তদন্ত নিয়ে আগেই আঙুল তুলেছে। অভিযোগ করেছে, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এ সব করা হচ্ছে।জওহরলাল নেহরুর হাতে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্র নিয়ে ২০১৩ সালে মনমোহন সিংহের জমানাতেই প্রথম দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। ২০১৪ সালে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়। এর মূলে ছিলেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। তাঁর অভিযোগ ছিল, এজেএল নামে যে সংস্থার হাতে সংবাদপত্রটির মালিকানা ছিল, বাজারে কোটি কোটি টাকার দেনা ছিল তাদের। যার বেশির ভাগটাই কংগ্রেসের কাছ থেকে নেওয়া। ২০০৮ সালে সংবাদপত্রটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। সেই অবস্থাতেই সংস্থাটি অধিগ্রহণ করে সনিয়া, রাহুল এবং শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের ‘ইয়ং ইন্ডিয়ান প্রাইভেট লিমিটেড’ সংস্থা। এর পর ন্যাশনাল হেরাল্ডের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি ইয়ং ইন্ডিয়ানের দখলে চলে আসে। কোটি কোটি টাকা দেনার বোঝাও চাপে তাদের ঘাড়ে। এর কিছু দিন পর ‘দেনার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব নয়’ বলে কারণ দেখিয়ে কংগ্রেসের তরফে ঋণের টাকা মকুব করে দেওয়া হয়। সেই নিয়েই আপত্তি তোলেন স্বামী। তদন্তে নামে ইডি। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ন্যাশনাল হেরাল্ড নিয়ে মামলা দায়ের করেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। তদন্ত শুরু হয়। এর পরে ২০১৪ সালে প্রথমবার সোনিয়া এবং রাহুলকে নোটিস পাঠায় দিল্লি পুলিশ। ওই বছরেই ১ আগস্ট তাঁদের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করে ইডি-ও। তবে ২০১৫ সালে তাঁরা দিল্লির আদালত থেকে জামিন পান। এর পরে ২০১৬ সালে মামলা খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন রাহুল এবং সোনিয়া। কিন্তু মামলা খারিজ হয়নি। উল্টে ২০১৯ সালে ন্যাশনাল হেরাল্ডের ৬৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নেয় ইডি।

About Author

Advertisement