নয়াদিল্লি: ইউক্রেন এক রাতেই ১,০১৫টি ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এই হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেন্ট পিটার্সবার্গের উপর অন্যতম বৃহত্তম হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে, ব্যবহৃত ড্রোনের প্রকৃত সংখ্যা এবং সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির স্বাধীন যাচাইকরণ প্রয়োজন।
প্রতিবেদন অনুসারে, এই হামলার সময় ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্র এবং লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও নির্ধারণ সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের জন্য ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাটি রাশিয়া এবং পশ্চিমা সামরিক জোটের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাশিয়া তার ভূখণ্ডে হামলা এবং জাতীয় নিরাপত্তার হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বা প্রস্তুতি চলছে কিনা, তা নির্ধারণের জন্য স্বাধীন যাচাইকরণ প্রয়োজন।
এদিকে, ইউরোপে ন্যাটোর একজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার রাশিয়ার যুদ্ধ করার সক্ষমতাকে দুর্বল করে এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে। পশ্চিমা দেশগুলো ও রাশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রতিযোগিতা এই উদ্বেগ বাড়িয়েছে যে, আঞ্চলিক সংঘাতগুলো একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র ফিনানস টাইমস-ও এই প্রশ্ন তুলেছে যে, বিশ্ব কি অজান্তেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনাপ্রবাহ বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য, সামরিক ব্যয় এবং অর্থনৈতিক প্রভাব সংক্রান্ত বিতর্কগুলোকে পুনরায় উস্কে দিয়েছে। দাবি করা হচ্ছে যে, ১৯৮৯ সাল থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত অংশ হ্রাস পেয়েছে, তবুও বৈশ্বিক সামরিক ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও তাদের দখলেই রয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ন্যাটোর ভূমিকা ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে, ড্রোন হামলার সংখ্যা, ন্যাটোর সরাসরি ভূমিকা এবং পারমাণবিক সতর্কতা সংক্রান্ত দাবিগুলো অবশ্যই নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন সূত্র দ্বারা যাচাই করা উচিত।





