নির্বাচন কমিশনের বড় পদক্ষেপ: বাংলায় একাধিক নির্বাচক নিবন্ধন আধিকারিক সাসপেন্ড

Election-Commission

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যে ভারতের নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী নির্বাচক নিবন্ধন আধিকারিকদের অবিলম্বে সাসপেন্ড করেছে। দায়িত্বে গাফিলতি, গুরুতর অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আয়োগ রাজ্য সরকারকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা শুরু করার নির্দেশও দিয়েছে। আয়োগ স্পষ্ট জানিয়েছে যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না।
কোন কোন আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা:
আদেশ অনুযায়ী ১৩৯-ক্যানিং পূর্ব (দক্ষিণ ২৪ পরগনা)-এর সত্যজিৎ দাস ও জয়দীপ কুণ্ডু, ৫৭-সুতি (মুর্শিদাবাদ)-এর শেখ মুর্শিদ আলম, ১৬-ময়নাগুড়ি (জলপাইগুড়ি)-এর দালিয়া রায় চৌধুরী, ৫৫-ফরাক্কা-র নীতিশ দাস, ৫৬-সমশেরগঞ্জ-এর ডা. সেফাউর রহমান এবং ২২৯-ডেবরা (পশ্চিম মেদিনীপুর)-এর দেবাশিস বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের উল্লেখ:
আয়োগ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এর জারি করা আদেশ (রিট পিটিশন ১০৮৯/২০২৫ সহ অন্যান্য আবেদন) উল্লেখ করে সংশোধিত বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা কর্মসূচি এবং আদালতের নির্দেশ কঠোরভাবে পালন নিশ্চিত করার কথা বলেছে।
ফর্ম-৭ আপত্তি নিয়ে কড়া নির্দেশ:
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয়ে প্রাপ্ত সমস্ত ফর্ম-৭ আপত্তি ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচক নিবন্ধন আধিকারিক বা সহকারী নির্বাচক নিবন্ধন আধিকারিকের কাছে পাঠাতে হবে এবং দাবি ও আপত্তির নিষ্পত্তি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
সম্ভাব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োগের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনায় কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না এবং স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।

About Author

Advertisement