নির্বাচনের জন্য প্রচারাভিযান শুরু

0d5b73ce-5c8e-4aae-b085-490e85a33c67

ফুতসেরো, ফেক, ৮ সেপ্টেম্বর: নাগাল্যান্ডে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে চলমান প্রচারাভিযান এবার ফুতসেরোতে পৌঁছেছে। চাখেসাং ক্লিন ইলেকশন মুভমেন্ট (সিসিইএম) নির্বাচনে অর্থবল, ভোট কেনাবেচা, চাপ সৃষ্টি এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা অভিযান আরও জোরদার করেছে।
ফুতসেরোর মিশন সেন্টারে অবস্থিত টি. চিক্রির পাইওনিয়ার্স কমপ্লেক্সে সোমবার এই প্রচারাভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে চাখেসাং সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শীর্ষ সংগঠন, গির্জা, যুব ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে চাখেসাং ব্যাপটিস্ট চার্চ কাউন্সিলের (সিবিসিসি) সভাপতি রেভ. ড. ভেভো ফেশাও স্বচ্ছ নির্বাচন বিষয়ক একটি নতুন গান প্রকাশ করেন। চাখেসাং পাবলিক অর্গানাইজেশন, চাখেসাং মাদার্স অ্যাসোসিয়েশন, চাখেসাং ইয়ুথ ফ্রন্ট এবং চাখেসাং স্টুডেন্টস ইউনিয়নের নেতারা প্রচারাভিযানের প্রতি সংহতি জানিয়ে তাঁদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে নির্বাচন-সংক্রান্ত আইনি বিধান সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়। নাগাল্যান্ড স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির সদস্য-সচিব নেইকো আকামি স্বচ্ছ নির্বাচন-সংক্রান্ত আইনি বিষয় নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
চাখেসাং ক্লিন ইলেকশন মুভমেন্ট চাখেসাং সম্প্রদায়ের উদ্যোগে পরিচালিত একটি অরাজনৈতিক প্রচারাভিযান। এটি নাগাল্যান্ড ব্যাপটিস্ট চার্চ কাউন্সিলের (এনবিসিসি) নেতৃত্বে পরিচালিত বৃহত্তর স্বচ্ছ নির্বাচন আন্দোলনেরই একটি অংশ।
এনবিসিসি ১৯৭০-এর দশক থেকেই নির্বাচনে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে আসছে। সেই সময় ‘একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাজ্য সাধারণ নির্বাচন’ স্লোগানকে সামনে রেখে যে প্রচারাভিযান শুরু হয়েছিল, ২০০৩ সালের পর তা আরও গতি পায়। ২০১১–১২ সালের নির্বাচনের সময় এই আন্দোলন আরও জোরদার করা হয়।
সিসিইএম নৈতিক মূল্যবোধ, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনার ওপর জোর দিয়ে আসছে। সংগঠনটির মতে, ভোট কেনাবেচা, অন্যের নামে ভোটদান, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের চাপ এবং অর্থবলের মতো প্রথা ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। তাই এসব প্রবণতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে।
স্বচ্ছ নির্বাচনের লক্ষ্যে চাখেসাং সম্প্রদায় নিজেদের কিছু বিশেষ আচরণবিধিও নির্ধারণ করেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক গির্জার কর্মী ও ধর্মীয় সেবকদের গির্জার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হবে এবং অন্তত পাঁচ বছর সেই দায়িত্বে ফিরে আসা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারের জন্য গির্জার সদস্যদের বাড়ি ব্যবহার করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
একইভাবে, ভোটারদের প্রভাবিত করতে ভোজের আয়োজন, গণমিছিল এবং সর্বসম্মত প্রার্থী ঘোষণার মতো প্রথাকেও এই আন্দোলনে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ভোটার, প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ভোট কেনাবেচা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি কোনো ব্যক্তির বাড়িতে দলীয় নির্বাচনী শিবির না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে সিবিসিসি। পাশাপাশি চাখেসাং পাবলিক অর্গানাইজেশন এবং এর অধীনস্থ চাখেসাং মাদার্স অ্যাসোসিয়েশন, চাখেসাং স্টুডেন্টস ইউনিয়ন ও চাখেসাং ইয়ুথ ফ্রন্টও এই প্রচারাভিযানে সমর্থন জানিয়েছে।
ফুতসেরোতে প্রচারাভিযানের সূচনার পর এবার ফেক জেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। সিসিইএম জানিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এলাকাভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ভোটারদের উদ্দেশে এই প্রচারাভিযানের বার্তা স্পষ্ট—শুধু ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেই নির্বাচন স্বচ্ছ হয় না। জনগণের পছন্দের ওপর অর্থ, জবরদস্তি বা কোনো ধরনের চাপের প্রভাব না থাকলেই কেবল একটি নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বলা যাযl

About Author

Advertisement