মুম্বাই: গোদরেজ ইন্ডাস্ট্রিজ গ্রুপ আজ তাদের নতুন লক্ষ্য ও ব্র্যান্ড পরিচিতি ঘোষণা করেছে, যা সংস্থার বিকাশযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই নতুন উদ্যোগ সংস্থার ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির কৌশল, পরিচিতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে তোলা হয়েছে।১২৯ বছরের ঐতিহ্যের উপর দাঁড়িয়ে এবং সাম্প্রতিক সময়ে নবীকৃত রূপে আত্মপ্রকাশ করা এই গ্রুপ অতীতের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের দিশাকে একসূত্রে বেঁধেছে। ভোক্তা পণ্য, আবাসন, আর্থিক পরিষেবা, কৃষি ও রাসায়নিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রমে আরও সুসংহত কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।

মুম্বাইয়ের সদর দফতর ‘গোদরেজ ওয়ান’-এ এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা করা হয়।এই নবযাত্রার কেন্দ্রে রয়েছে একটি নতুন লক্ষ্য— “১৮৯৭ থেকে আগামীর নির্মাতা”। এর মাধ্যমে সংস্থার ঐতিহ্য ও উদ্ভাবননির্ভর দায়িত্বশীল ব্যবসা গড়ে তোলার অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে। এই দর্শনের প্রেরণা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আরদেশির গোদরেজ-এর আদর্শ থেকে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থা তাদের তিনটি মূল মূল্যবোধ পুনরায় তুলে ধরেছে— বিশ্বাস গড়ে তোলা, আনন্দ প্রদান এবং সাহসী হওয়া— যা ভবিষ্যতে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।গ্রুপের মনোনীত চেয়ারপার্সন পিরোজশা গোদরেজ বলেন, “এই নতুন লক্ষ্য আমাদের সেই বিশ্বাসকে তুলে ধরে যে মূল্যবোধ ও সাফল্য একসঙ্গে এগিয়ে চলা উচিত। আমরা যত বড় হচ্ছি, ততই এই দর্শন আমাদের দায়িত্বশীল ও সফল ব্যবসা গড়ে তুলতে পথ দেখাবে।”গত পাঁচ বছরে সংস্থার বিক্রি ও নিট মুনাফা বার্ষিক গড়ে ২০ শতাংশেরও বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য সংস্থা ১৫ শতাংশের বেশি বার্ষিক বিক্রয় বৃদ্ধি এবং ১০ শতাংশের বেশি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।পাশাপাশি প্রত্যেকটি ব্যবসায় ১৮ শতাংশের বেশি ইকুইটি রিটার্ন বজায় রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনটি তালিকাভুক্ত সংস্থা থেকে পাঁচটিতে সম্প্রসারণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এই ধারাবাহিক অগ্রগতির ফলে আগামী পাঁচ বছরে মোট বাজারমূল্য ৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।সংস্থার বৃদ্ধির কৌশল আর্থিক সাফল্যের পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশের প্রতি ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক স্থায়িত্ব সূচকে তাদের ভোক্তা পণ্য ও আবাসন ব্যবসা নিজ নিজ ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে স্থান পেয়েছে। এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে সংস্থা ২০৩৫ সালের মধ্যে নিঃসরণ শূন্য অপারেশন এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে পরিবেশবান্ধব সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। এছাড়াও আগামী পাঁচ বছরে নারী, তৃতীয় লিঙ্গ ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ৪০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।নতুন লক্ষ্য ঘোষণার পাশাপাশি সংস্থার নিজস্ব নকশা দল একটি আধুনিক ব্র্যান্ড পরিচিতিও উন্মোচন করেছে। এতে নতুন ভিজ্যুয়াল ভাষা, নিজস্ব ফন্ট, শব্দ পরিচিতি ও স্বতন্ত্র ঘ্রাণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত অভিজ্ঞতা তৈরি করা হয়েছে, যা ডিজিটাল ও বাস্তব উভয় ক্ষেত্রেই এক অভিন্ন পরিচয় গড়ে তুলবে।সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান ব্র্যান্ড আধিকারিক তানিয়া দুবাশ বলেন, “এই নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ— দুই দিককেই প্রতিফলিত করে। এটি আমাদের ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং একইসঙ্গে একটি আধুনিক ও ঐক্যবদ্ধ পরিচয় তৈরি করেছে, যা প্রতিটি ব্যবসাকে তাদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই একটি যৌথ লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করবে।”









