দেড় বছর পর পাওয়া গোল ভাইকে উৎসর্গ গ্রিলিশের

IMG-20250403-WA0292

লন্ডন: দীর্ঘ ২৫ বছর আগের এক ঘটনা এখনো ভুলতে পারেননি জ্যাক গ্রিলিশ। ভুলবেন কি করে? আপন ছোটভাইকে হারানোর দিন কি আর ভোলা যায়। গতকাল তাই গোল পাওয়ার পর পরেই দুই হাত তুলে উর্ধ্বপানে চেয়ে ভাইকে স্মরণ করলেন ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার। ২০০০ সালে ৯ মাস বয়সে সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম (এসআইডিএস) রোগে মারা যান গ্রিলিশের ছোট ভাই কিলান গ্রিলিশ। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর সময় গ্রিলিশের বয়স ছিল ৪ বছর। সেই ছোট্ট বয়স থেকেই ভাইয়ের মৃত্যু শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন কাঁধে। তাই বিশেষ মুহূর্তের সময় ভাইকে স্মরণ করতে ভুলে যাননা তিনি। লেস্টার সিটির বিপক্ষে ২ মিনিটে করা গোলটি গ্রিলিশের জন্য আবার কাঙ্খিত। কেননা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের পর প্রিমিয়ার লিগে প্রথম গোল পেয়েছেন ২৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। প্রায় দেড় বছর পর। সঙ্গে আবার গত ডিসেম্বরের পর প্রথমবারের মতো সিটির একাদশে সুযোগ পেয়েছেন। তার ও ওমর মারমুশের গোলে পরে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে সিটিজেনরা। গোল উদযাপনের বিষয়ে ম্যাচ শেষে গ্রিলিশ বলেছেন, ‘২৫ বছর আগে আজকের (গতকাল) দিনেই আমার ছোট ভাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমায়। আমার পরিবারের জন্য কঠিন এক দিন। তবে গোল করতে পেরে আমি খুশি। আমার বাবা-মা এখানে (ইত্তিহাদ স্টেডিয়াম) উপস্থিত আছেন। আমার পরিবারের জন্য সব সময় দিনটা কঠিন। তাই গোল এবং জয় পাওয়াটা দারুণ ছিল।’ পরে নিজের সামাজিক মাধ্যম ইনস্ট্রাগ্রামে ভাইকে নিয়ে আরেকটি পোস্টও দেন গ্রিলিশ। ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড লিখেছেন, ‘দিনটা আমার জন্য সব সময় বিশেষ। এটা (গোল) তোমার জন্য কিলান।’ ২০২১ সালে অ্যাস্টন ভিলা থেকে ম্যানসিটিতে আসার পর এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১৭ গোল করেছেন গ্রিলিশ। সংখ্যাটা কম মানছেন সিটির মিডফিল্ডারও। তবে গোল করার চেয়ে সহায়তা করতে বেশি পছন্দ করেন বলেই জানিয়েছেন গ্রিলিশ। ২৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘নিজেকে চিনি বলে বলছি আরো গোল করতে পারব। তবে গোল করার চেয়ে করানোতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এক মৌসুমে আমার সর্বোচ্চ গোল ৮টি। মৌসুমে ২০ বা ৩০ গোল করার জন্য এখানে আনা হয়নি। যারা ধারাবাহিকভাবে গোল করে তাদের মতো আমি নই। অবশ্যই গোল করতে ভালোবাসি। এর থেকে ভালো অনুভূতি হতেই পারে না। তবে আমি গোল করার চেয়ে অন্যদের দিয়ে করাতেই ভালোবাসি।’

About Author

Advertisement