নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের শতাধিক সমর্থক মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে গেরুয়া পতাকা নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে ব্যারিকেড সরিয়ে দেন, যার ফলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ যখন ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিল, তখন বিক্ষোভকারীরা একাধিক ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়। প্রতিবেশী দেশে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর ঘোষিত বিক্ষোভের আগেই সকাল থেকে উচ্চ নিরাপত্তা এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছিল। এলাকায় তিন স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয় এবং পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত ইউনিট মোতায়েন করা হয়।
১৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন:
এক কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভের আগে ১৫,০০০ পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। তাঁর মতে, বিক্ষোভকারীদের হাইকমিশন থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরেই আটকে দেওয়া হয়। হাইকমিশনের দিকে অগ্রসর হওয়া ঠেকাতে ডিটিসি বাস ব্যারিকেড হিসেবে দাঁড় করানো হয়। বাতাসে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড উড়ছিল, যেখানে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা লেখা ছিল। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “হিন্দু রক্তের এক-এক ফোঁটার হিসাব চাই।”
বাংলাদেশে ১৮ ডিসেম্বর পোশাক কারখানায় কর্মরত ২৫ বছর বয়সি দীপু চন্দ্র দাসকে ময়মনসিংহের বালুকা এলাকায় ঈশ্বরনিন্দার অভিযোগে একদল লোক পিটিয়ে হত্যা করে এবং তাঁর দেহে আগুন লাগায়। পুলিশের মতে, প্রথমে কারখানার বাইরে তাঁকে মারধর করা হয়, পরে একটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের কাছে দেহ ফেলে রেখে পরে সেটিতে আগুন ধরানো হয়।
ভারতে সব সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান:
এক বিক্ষোভকারী বলেন, “এক হিন্দু ব্যক্তির ওপর নির্মম হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আমাদের সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশও দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিক।”
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, “ভারতে আমরা সব সম্প্রদায়কে ভাই-বোনের মতো দেখি। প্রতিটি দেশেই প্রত্যেক হিন্দুর সঙ্গে একই রকম সম্মানজনক আচরণ হওয়া উচিত।”
ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা
ভিএইচপির বিক্ষোভের পরিকল্পনা মাথায় রেখে সকাল থেকেই বাংলাদেশ হাইকমিশনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন ছিল। বিক্ষোভকারীদের হাইকমিশনের কাছে পৌঁছনোর আগেই থামানো হয়। তবে বিপুল ভিড় প্রথম ব্যারিকেড পার হতে সক্ষম হলেও, হাইকমিশনে পৌঁছনোর আগেই তাদের আবার থামিয়ে দেওয়া হয়।
ভারতসহ বিশ্বজুড়ে দীপুর হত্যার প্রতিবাদ:
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে উসমান হাদির মৃত্যুর পর ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার মধ্যে এক হিন্দু যুবক দীপুকে প্রথমে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তাঁর দেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগানো হয়। এই ঘটনায় শুধু ভারত নয়, বিদেশেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নেপালেও হিন্দু সংগঠনগুলো বিক্ষোভ করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিবও ঘটনার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে এবং মার্কিন সাংসদরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।










