কলকাতা: ডিবিএস ফাউন্ডেশন এশিয়া জুড়ে সামাজিক প্রভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২৫ সালের জন্য ২২টি উদ্যোগকে মোট ৪.৯ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৩৪.৪০ কোটি টাকা) অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেছে। এই তালিকায় রয়েছে কলকাতা-ভিত্তিক দুই সংস্থা—আইকিউর টেকসফট এবং কদম হাত বাস্কেট্রি। পাশাপাশি, গুরুগ্রামের লার্নার্ন-ও ভারত থেকে নির্বাচিত হয়েছে। এই সংস্থাগুলি প্রমাণ করছে, কীভাবে কলকাতার মতো শহর থেকেও উদ্দেশ্যনিষ্ঠ উদ্ভাবন সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে ক্রমশ বড় ভূমিকা নিচ্ছে।
এটি ২০১৫ সালে শুরু হওয়া ডিবিএস ফাউন্ডেশনের অনুদান কর্মসূচির একাদশ সংস্করণ। এই উদ্যোগের লক্ষ্য এমন সংস্থাগুলিকে সহায়তা করা, যারা নতুন ও সম্প্রসারণযোগ্য সমাধানের মাধ্যমে সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
নির্বাচিত প্রতিটি সংস্থাকে সর্বোচ্চ ১.৭৫ কোটি টাকা (২ লক্ষ ৫০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার) পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, তারা ডিবিএস ফাউন্ডেশন এবং ডিবিএসের বিস্তৃত পরিকাঠামো থেকে সার্বিক সহায়তা পাবে—যার মধ্যে রয়েছে দিকনির্দেশনা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং পরিষেবা এবং সমমনস্ক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ। এর ফলে তারা তাদের কাজের বিস্তার ও সামাজিক প্রভাব আরও বৃদ্ধি করতে পারবে।
ডিবিএস ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য সমাজের প্রান্তিক মানুষের সামাজিক ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। সেই লক্ষ্যেই ২০২৫ সালের এই উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা এবং জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেক সংস্থা তাদের কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল উপায়, খেলাধুলাভিত্তিক পদ্ধতি, চক্রাকার অর্থনীতি এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক মডেল ব্যবহার করছে, যাতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছানো যায়।
প্রায় ২,২০০টি আবেদন থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সংস্থাগুলিকে নির্বাচন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ডিবিএসের ৪১৫ জন কর্মী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
ভারত থেকে নির্বাচিত তিনটি সংস্থা~
আইকিউর টেকসফট—গ্রামীণ অঞ্চলে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় ডিজিটাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সাশ্রয়ী প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করে।
কদম হাত বাস্কেট্রি—গ্রামীণ কারিগরদের জন্য দায়িত্বশীল বাজার তৈরি করে হস্তশিল্পের প্রসার ঘটায় এবং স্থায়ী জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করে।
লার্নার্ন—তরুণদের কর্মসংস্থানের সক্ষমতা বাড়াতে কাজভিত্তিক শিক্ষা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও শিক্ষানবিশ কর্মসূচি পরিচালনা করে।
ডিবিএস ফাউন্ডেশনের প্রধান কারেন নগুই জানান, বর্তমান অনিশ্চিত সময়ে প্রান্তিক মানুষদের আরও সক্ষম ও আত্মনির্ভর করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য ব্যবসা, সমাজ ও সরকারি ক্ষেত্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সংস্থা এমন উদ্যোগগুলির পাশে থাকে, যারা বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করছে, এবং তাদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
ডিবিএস ব্যাংক ইন্ডিয়ার গোষ্ঠী বিপণন ও যোগাযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌরব রাজপুত বলেন, ভারত থেকে নির্বাচিত এই উদ্যোগগুলি দেখিয়ে দেয়, কীভাবে উদ্দেশ্যভিত্তিক উদ্ভাবন দেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক চাহিদা পূরণ করতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ জীবিকার ক্ষেত্রে তারা বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনছে।
২০১৫ সাল থেকে এশিয়ার সামাজিক প্রভাবভিত্তিক উদ্যোগকে শক্তিশালী করছে ডিবিএস ফাউন্ডেশন~
এ পর্যন্ত এই সংস্থা তাদের অনুদান কর্মসূচি ও বিশেষ পুরস্কারের মাধ্যমে ১৮০টিরও বেশি উদ্যোগকে সহায়তা করেছে। এই বিশেষ পুরস্কার এমন সংস্থাগুলিকে অতিরিক্ত সহায়তা দেয়, যারা বৃদ্ধ জনসংখ্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রয়োজনের সমাধান নিয়ে কাজ করছে। বিজয়ীরা তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত সহায়তা পায়।
২০২৪ সালে দ্বিতীয় দশকে পদার্পণের সঙ্গে সঙ্গে ডিবিএস আগামী ১০ বছরে ১ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার আর্থিক সহায়তা এবং ১৫ লক্ষ কর্মী-স্বেচ্ছাসেবী ঘণ্টা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ডিবিএস ফাউন্ডেশন ৪৮টি উদ্যোগকে সহায়তা এবং ২৯টি নতুন কর্মসূচি শুরু করতে ১৬০ মিলিয়নেরও বেশি সিঙ্গাপুর ডলার বরাদ্দ করেছে। এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে ২০২৯ সালের মধ্যে ৮০ লক্ষেরও বেশি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডিবিএস ফাউন্ডেশন এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী ও অর্থবহ পরিবর্তন আনতে চায়, যাতে প্রান্তিক মানুষ নিজেদের শক্তিতে এগিয়ে গিয়ে একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।










