মুম্বাই: আমির খান, বলিউডের ‘মিস্টার পারফেক্টশনিস্ট’ হিসেবেই সকলের কাছে পরিচিত। অভিনয় থেকে প্রযোজনা আমিরি কামালে মুগ্ধ হিন্দি ছবির দর্শক। ছেলে জুনায়েদ খানের আসন্ন ছবি ‘এক দিন’। এই সিনেমায় আমির পুত্রের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী সাই পল্লবী। ‘এক দিন’-এর হাত ধরেই বিটাউনে পা রেখেছেন। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন খোদ আমির খান। আগামী ১ মে বড় পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে জুনায়েদ-সাই পল্লবী জুটির এই নতুন ছবি। তার আগে হিন্দি ছবির দর্শকের জন্য চমকপ্রদ প্রস্তাব। মুক্তির ৩৯ দিন আগেই অগ্রিম বুকিং শুরু করা হয়েছে। তবে তার নেপথ্যে রয়েছে এক বিশেষ কারণ।বলিউডের এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমির জানিয়েছেন, আনকোরা জুটির প্রথম ছবিতে দর্শককে হলমুখী করতে মুক্তির ৩৯ দিন আগেই অগ্রিম বুকিং শুরু করা হয়েছে। ‘আমিরি কৌশল’সকলকে চমকে দিয়েছে সে কথা বলার অপেক্ষাই রাখছে না। আলাপচারিতায় আমির বলেন, “আসলে এক দিন ছবির দুজনই বলিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রায় নতুন মুখ।জুনায়েদ সদ্যই ওঁর কেরিয়ার শুরু করেছে আর হিন্দিতে সাই পল্লবীর প্রথম ছবি। তাই আমার মনে হয় এই ছবিটি দর্শকের কাছে পৌঁছতে একটু বেশি সময় লাগবে। যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়, ততই মঙ্গল। সিনেমার গল্প ব্যক্তিগতভাবে আমার খুব ভালো লেগেছে। এমন একটি গল্প যেটা আমি নিজে বিশ্বাস করি। তাছাড়া আমি নিজেও একটু আবেগপ্রবণ।”ছবি মুক্তির ৩৯ দিন আগে টিকিট বুকিং প্রসঙ্গে একটা কথা অবশ্যই বলতে হয়, বাংলা ইন্ডাস্ট্রির ‘দেশু ৭’-এর রেকর্ড কিন্তু ভাঙতে পারলেন না সুপারস্টার আমির খান। টলিউডের হাইভোলটেজ জুটি দেব-শুভশ্রী তাঁদের আগামী সিনেমার বুকিং শুরু করে দিয়েছেন দশ মাস আগে। ‘দেশু ৭’ নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনার পারদ যে ঊর্ধ্বমুখী সে কথা আজ আর আলাদা করে বলার অবকাশই রাখে না।এবার বলিউডেও শুরু হল সেই ট্রেন্ড। দশ মাস না হলেও প্রায় দেড় মাস আগেই শুরু হল অগ্রিম টিকিট বুকিং। দেশু ৭ ও এক দিন-এর অগ্রিম বুকিংয়ের ক্ষেত্রে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়,আনকোরা জুটির স্বার্থে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আর দেশু জুটি ভক্তদের ভালোবাসার পালটা উপহার হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।সিনেমার প্রচারে ব্যস্ত টিম ‘এক দিন’। সেইরকমই এক প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে সাই পল্লবী প্রথম হিন্দি সিনেমা নিয়ে কথা বলেন। অনুষ্ঠানের মাঝে বেশ কয়েকবার ইংরাজিতে কথা বলার জন্য ক্ষমাও চেয়ে নেন অভিনেত্রী। অকপটে স্বীকার করেন, হিন্দি ভাষার প্রতি দখল খুব একটা ভালো নয়। এখনও পুরোপুরি রপ্ত করতে সময় লাগবে।২৭ বছর পর আসতে চলেছে ‘তাল’-এর সিক্যুয়েলমুম্বই: হাল ফ্যাশনের চিত্রনাট্য, ভিএফএক্সের বাড়বাড়ন্ত আর দক্ষিণী ছবির ভিড়েও নয়ের দশকের ছেলেমেয়েরা নস্ট্যালজিয়ায় ভর করে বাঁচতে ভালোবাসে বললে অত্যুক্তি হবে না। কথায় আছে পুরনো চাল ভাতে বাড়ে। ঠিক সেইরকমই নয়ের দশকের সিনেমাগুলো টেলিভিশনের পর্দায় যখন বিভিন্ন সময় ফিরে আসে তখন দর্শকমনেও দোলা দেয়। সিক্যুয়েলের যুগে যদি সেই কাল্ট ক্লাসিক ছবিগুলির দ্বিতীয়ভাগ তৈরি হয়!১৯৯৯ সালে পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের নির্দেশনায় মুক্তি পেয়েছিল ব্লকবাস্টার মুভি ‘তাল’। অক্ষয় খান্না, ঐশ্বর্য রাই বচ্চন ও অনিল কাপুরের সম্পর্কের সমীকরণে মন মজেছিল দর্শকের। নয়ের দশকের সিনেপ্রেমীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই ‘তাল ২’ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন পরিচালক? দীর্ঘ ২৭ বছর পর তৈরি হবে ‘তাল টু’? সাম্প্রতিক সময়ে সমাজমাধ্যমে সুভাষ ঘাইয়ের একটি প্রশ্নই ‘তাল টু’ নিয়ে জল্পনা উসকে দিয়েছে।তিনি জানতে চেয়েছেন আজকের দিনে ‘তাল টু’ তৈরি সম্ভব? ৮১ বছর বয়সী নির্মাতা জানিয়েছেন, ‘আমি যে পোস্টটা শেয়ার করেছি সেটা একটা প্রশ্ন মাত্র। এর উত্তর দর্শকরাই দেবেন। গত ১৫ বছর ধরে আমি একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি, আপনি আবার কবে তাল বানাবেন? সেই তালের এনার্জি এতটাই শক্তিশালী যে জেন জি-ও আমাকে তালের দ্বিতীয়ভাগ বানানোর অনুরোধ করছে।কিন্তু বিষয়টা যতটা সহজ মনে হচ্ছে বাস্তবে ততটাই কঠিন। আমরা স্ক্রিপ্ট প্রায় সম্পূর্ণ করে ফেলেছি। এখন মনে হচ্ছে এটা হয়তো সঠিক সময় নয়।’ আরও যোগ করেছেন, ‘যখন তাল তৈরি হয়েছিল,তখন অক্ষয় খান্না আর ঐশ্বর্য রাই বচ্চন দুজনেই ইন্ডাস্ট্রিতে সদ্য পা রেখেছিলেন। সেই কারণেই পর্দায় তাঁদের প্রেমের গল্পের বুনোট দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করেছিল। একইরকমভাবে অনিল কাপুর তখন একজন অভিজ্ঞ অভিনেতা। ওঁর চরিত্রটিকেও সেইভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছিল।একটা ভালো স্ক্রিপ্ট লেখার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল সঠিক কাস্টিং। আমার যে ছবিগুলো বক্স অফিসে খারাপ ব্যবসা করেছিল তার প্রধান কারণ ছিল ভুল কাস্টিং।’ ইনস্টাগ্রামে নিজের পোস্টের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছিলেন, তালের চিত্রনাট্যে না ছিল কোনও ভিলেন, কোনও যৌনতার ছোঁয়া বা হিংসা। জেন জি এই গল্প কতটা পছন্দ করবে সেটা নিয়েই ধন্দে পরিচালক সুভাষ ঘাই।









