সিঙ্গাপুর: সিঙ্গাপুর পুলিশ বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ভারতীয় গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে। তদন্তে কোনও ধরনের ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বুধবার প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে সিঙ্গাপুরের ‘মৃত্যু-তদন্ত আইন, ২০১০’-এর অধীনে ঘটনাটির বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রাপ্ত সব প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সাক্ষীর বয়ান গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এই বিবৃতি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা আদালত বা বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
তদন্ত অনুযায়ী, গার্গ লাজারাস দ্বীপের নিকটবর্তী সমুদ্র অঞ্চলে একটি নৌযাত্রায় ছিলেন। সাঁতার কাটার সময় প্রথমে তিনি জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট পরেছিলেন, কিন্তু পরে তা খুলে ফেলেন এবং তা ছাড়া নৌকায় ফিরে আসেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দ্বিতীয়বার পানিতে নামার সময় তিনি একাই এবং নৌকা থেকে দূরে সাঁতার কাটছিলেন। জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট পরার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে নৌকার দিকে ফেরার সময় তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখা যায়।
নৌকার অধিনায়ক ও অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত তাঁকে পানির বাইরে তুলে নৌকায় নিয়ে আসেন এবং হৃদযন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস সচল করার প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। জরুরি বার্তার পর উপকূলরক্ষী পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।
তীরে পৌঁছানোর পর চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে চিকিৎসা দেন এবং পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরের একটি সাধারণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
ময়নাতদন্ত ও বিষ-বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তাঁর মৃত্যু ডুবে যাওয়ার কারণেই হয়েছে। তদন্তে তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রাও বেশি পাওয়া গেছে।
এই সমস্ত তথ্য রাষ্ট্রীয় তদন্তকারী বিচারকের কাছে জমা দেওয়া হয়, যিনি ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঘটনাটিকে ‘আকস্মিক ডুবে মৃত্যু’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনিও বলেন, এতে কোনও ধরনের ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত ছিল না।
পুলিশ আরও জানায়, এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি যাতে বোঝা যায় যে ওষুধ, মাদকদ্রব্য বা কোনও অ্যালার্জির কারণে এই মৃত্যু ঘটেছে। পাশাপাশি, গায়কের পরিবার ও তাঁর প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।








