খাড়ি অঞ্চলে বাড়ছে উত্তেজনা, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হামলা চলছেই

1772261564152-6ev4y-ff53661ba02592569bf0016b87ede6021d456116cb8b64bb654e6249d0d145a7

নয়াদিল্লি: খাড়ি অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান। আমেরিকা ও ইসরায়েল দ্বারা ইরানের ওপর যৌথ হামলার প্রায় দুই সপ্তাহ পরও উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলছেই। সোমবারও ইসরায়েল লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লার ঘাঁটিতে বায়ু হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি হামলার পরে লেবাননের রাজধানী বেরুতে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে যে তারা ইরান সম্পর্কিত সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্রাগারকে লক্ষ্য করেছে। এই হামলার পর দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকাকে খালি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সামরিক অভিযানগুলোর কারণে লেবাননে আট লাখেরও বেশি মানুষ তাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানও জবাবি ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করেছে। ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি ও তেল সংক্রান্ত অবকাঠামোকে লক্ষ্য করার চেষ্টা করেছে। এর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে এক ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্যবস্তু হয়, যার ফলে সেখানে তীব্র আগুন লাগে। তবে দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন, কিন্তু ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করতে হয়।
খাড়ীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলির মধ্যে একটি, হরমুজ প্রণালীতেও জাহাজ চলাচল প্রভাবিত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেলই এই পথ দিয়ে পরিবহণ হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ মার্কিন ডলারের ওপরে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সংঘাতের পর প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে আমেরিকা হরমুজ প্রণালীতে তেল ট্যাঙ্কার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেছে। তবে এখনো পরিষ্কার নয় কোন দেশগুলো এই প্রস্তাবের সমর্থন জানিয়েছে।
ইরান যুদ্ধে বিরতি বা আলোচনার সম্ভাবনাকে বাতিল করেছে। ইরানের নেতৃত্ব জানিয়েছে যে, যতক্ষণ তার ওপর হামলা চলছেই, তার সেনা জবাবি ব্যবস্থা চালিয়ে যাবে।
এদিকে সৌদি আরব দাবি করেছে যে, তারা পূর্বাঞ্চলে ইরানের পাঠানো ৩৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এই অঞ্চল দেশটির প্রধান তেল সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই সংঘাত আরও বৃদ্ধি পায়, তবে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাতেও পড়তে পারে।

About Author

Advertisement