কেরালায় ভি ডি সতীশনের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ

Keralam-Swearing-in-Live

৬৪ বছর পর পুরো মন্ত্রিসভাকে নিয়ে একটি ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ

তিরুবনন্তপুরম: কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ভি ডি সতীশন সোমবার কেরালার ১৩তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ ও গোপনীয়তার শপথ গ্রহণ করেন। রাজভবনে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকর তাঁকে এবং তাঁর ২০ জন মন্ত্রিসভার সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান।
‎কেরালার রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রায় ৬৪ বছর পর এই প্রথম একই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভার সঙ্গে শপথ গ্রহণ করলেন। এর আগে ১৯৬২ সালে আর শঙ্করের নেতৃত্বে এমন ঘটনা ঘটেছিল।
‎এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা। এছাড়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, রাজীব চন্দ্রশেখর সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
‎শপথগ্রহণের সময় প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতা থাকা সত্ত্বেও উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। শপথ নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী সতীশন কংগ্রেস নেতৃত্ব মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে দলের বিজয় উদযাপন করেন।
‎নতুন মন্ত্রিসভায় ১৪ জন নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যারা প্রথমবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। এর মধ্যে সি পি জন, এন শামসুদ্দিন, কে এম শাজি, পি কে বশির, ভি ই আব্দুল গফুর, পি সি বিষ্ণুনাথ, রোজি এম জন, বিন্দু কৃষ্ণা এবং টি সিদ্দিকি সহ একাধিক নাম রয়েছে।
‎বিধানসভায় স্পিকার হিসেবে তিরুবঞ্চুর রাধাকৃষ্ণন এবং উপ-স্পিকার হিসেবে শনিমোল উসমানকে মনোনীত করা হয়েছে। আগামী ২২ মে বিধানসভার স্পিকার নির্বাচন, ২৯ মে রাজ্যপালের নীতি বক্তব্য এবং ৫ জুনের মধ্যে রাজ্য বাজেট পেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
‎মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
‎সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুন থেকে রাজ্যের সরকারি বাস পরিষেবায় নারীদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত চালু হবে। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে এবং আশাকর্মীদের ভাতা ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
‎এছাড়া ২০২৩ সালের “নব কেরল যাত্রা” চলাকালে হামলার ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‎গত ১০ দিন ধরে চলা রাজনৈতিক আলোচনার পর এই সরকার গঠিত হয়। নির্বাচনে ইউডিএফ জোট ১৪০টির মধ্যে ১০২টি আসন পেয়ে বড় জয় পায়। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনার পর ভি ডি সতীশনের নামেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় এবং তিনি পূর্ণ মন্ত্রিসভার সঙ্গে রাজ্যের নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

About Author

Advertisement