কিশোরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার দাবি আমিরের

IMG-20260312-WA0061

মুম্বই: দিন কয়েক আগেই কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া সংশ্লিষ্ট রাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেদ্ধাজ্ঞা জারির কথা ঘোষণা করেছেন। কৌশোরে যেন মন-মানসিকতা দূষিত না হয়, সেকথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সোশাল মিডিয়া ব্যবহারে সীমারেখা টেনেছে। এবার মুম্বইয়ে ‘লোকমত মহারাষ্ট্রিয়ান অফ দ্য ইয়ার’ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করলেন আমির খান।
‘পিকে’, ‘তারে জমিন পর’ থেকে ‘দঙ্গল’, ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর মতো একাধিক সিনেমায় সামাজিক বা মনস্তাত্ত্বিক সচেতনতামূলক বার্তা দিয়েছেন আমির খান। এবার ডিজিটালাইজেশনের যুগে সোশাল মিডিয়া কীভাবে শিশুদের মনে প্রভাব ফেলছে? সেকথা তুলে ধরলেন। ‘লোকমত মহারাষ্ট্রিয়ান অফ দ্য ইয়ার’ অনুষ্ঠানে দেবেন্দ্র ফড়ণবিসের সামনে বসে আমির খানের মন্তব্য, “সোশাল মিডিয়া আমাদের সকলের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। যদিও এর অনেক সুবিধা রয়েছে, কিন্তু একটা সময় ছিল যখন আমি সপ্তাহে দু-তিনটে করে বই পড়তাম। শুটে যাওয়ার পথে কিংবা প্রাতঃরাশে বসে, হাজার শশব্যস্ত শিডিউল হলেও পড়ার অভ্যাসটা ছিল। কিন্তু এখন আমি হয় ইউটিউবে সময় নষ্ট করছি বা ইনস্টাগ্রাম রিল দেখছি!
সোশাল মিডিয়া এত ঘাঁটা উচিত নয়, এটা জানা সত্ত্বেও। কিন্তু অ্যালগরিদমের সুবাদে আপনার কাছে পছন্দমতো সব আকর্ষণীয় ভিডিওই আসতে থাকে। আর আপনিও সেই ফাঁদে পা দিয়ে হারিয়ে যান। এটা মানুষকে অনেকটা সম্মোহন করার মতো।” এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি। আমিরের সংযোজন, “আমি সোশাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে নই, কিন্তু এই বিষয়ে আমাদের ভাবার সময় এসেছে এখন।
অনেক দেশ আছে যারা ইতিমধ্যেই এপথে হেঁটেছে। তবুও বলব একদম সঠিক কাজ করেছে। কারণ এভাবে তো শিশুমন, মস্তিষ্ক দূষিত হচ্ছে। আমি বলছি না যে, অপরাধমূলক প্রবণতা কিংবা দুর্নীতি শুধু আমাদের দেশেরই সমস্যা। এটা আসলে, মনস্তত্ত্বের একটা স্তর। আর দুর্নীতি শুধু টাকাপয়সারই হয় না, বরং মন-মানসিকতারও হয়। এই যেমন নিত্যদিন আমরা এপস্টেইন ফাইসল সম্পর্কে জানতে পারছি।” আমিরের এহেন মন্তব্যে সায় দেন দেবেন্দ্র ফড়ণবিসও।

About Author

Advertisement