মাস্কাট: ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে হুথি বিদ্রোহীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে; তারা জানিয়েছে যে, লোহিত সাগরে তারা আর মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজে হামলা চালাবে না এবং তাদের একমাত্র লক্ষ্যবস্তু হবে সৌদি আরবের জাহাজগুলো। মধ্যপ্রাচ্যে এটিকে একটি উল্লেখযোগ্য কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে হুথি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আব্দুলসালাম ও আব্দুলমালিক আল-আজরি; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন মাস্কাট-ভিত্তিক দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তারা। হুথি প্রতিনিধিরা স্পষ্টভাবে জানান যে, ২০২৫ সালে ওয়াশিংটনের সাথে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি তারা পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, হুথিরা তাঁর প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। এদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এই গোষ্ঠীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা সত্ত্বেও, লোহিত সাগরে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সৌদি আরবের জন্য ঘনীভূত সংকট
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মক্কায় হামলার প্রচেষ্টাকে সৌদি আরব তাদের ‘রেড লাইন’ বা ‘সীমা রেখা’ অতিক্রমের শামিল বলে অভিহিত করেছে। এছাড়া, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর বেশ কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও বিদ্রোহীরা নিজেদের দখলে নিয়েছে।
হুথি হামলার কারণে সৌদি আরবের একটি প্রধান তেল পাইপলাইন কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।





