নয়াদিল্লি: ফুটবলের মহারণ হিসেবে পরিচিত ফিফা বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সর্বাধিক অনুসৃত ক্রীড়া আসরগুলির অন্যতম। প্রতি চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞকে ঘিরে কোটি কোটি সমর্থকের নজর থাকে। এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলির পাশাপাশি ছোট দেশগুলিও যোগ্যতা অর্জন পর্বে অংশ নেয়।এমনকি শীর্ষ দলগুলির পক্ষেও বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া সহজ নয়। যোগ্যতা অর্জন পর্বই যখন এত কঠিন, তখন বিশ্বকাপে খেলার আনন্দ কেমন হতে পারে তা কেবল অংশগ্রহণকারী দলগুলিই অনুভব করতে পারে।বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সদস্য দেশ সংখ্যা ২১১। প্রত্যেক দেশেরই স্বপ্ন অন্তত একবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া, যদিও সেই স্বপ্ন সবার পূরণ হয় না। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে শুরু হওয়া ফিফা বিশ্বকাপের ২২টি আসর ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১১ জুন থেকে আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে চলেছে ২৩তম আসর।এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২টি বিশ্বকাপে মোট ৮০টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। এবারের আসরে সেই তালিকায় আরও চারটি নতুন দেশের নাম যুক্ত হতে চলেছে। এশিয়া থেকে জর্ডন ও উজবেকিস্তান, আফ্রিকা থেকে কেপ ভার্দে এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে কুরাসাও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নিজেদের উপস্থিতি জানাতে চলেছে।বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে অংশ নেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বারই কঠিন যোগ্যতা অর্জন পর্ব পেরোতে হয়। এই ক্ষেত্রে ব্রাজিল একমাত্র দেশ, যারা এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সবকটি ২২টি আসরেই খেলেছে এবং এবার ২৩তম বারের জন্য বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতীক বলেই মনে করা হয় এবং সেই দেশের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলেকে ফুটবলের রাজা বলা হয়। ব্রাজিলই সর্বাধিক পাঁচবার ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছে।এখন পর্যন্ত মোট ৯০টি দেশ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ব্রাজিল-সহ মাত্র আটটি দেশ শিরোপা জিততে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, ১৯টি দেশ মাত্র একবার করে বিশ্বকাপে খেলেছে।ডিআর কঙ্গো, কাতার, হাইতি, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, পানামা এবং ইরাক এবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলেছে। এর মধ্যে ডিআর কঙ্গো ও হাইতি ৫২ বছর পর এবং ইরাক ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে। বসনিয়া ১২ বছর পর এবং পানামা ৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে, আর কাতার টানা দ্বিতীয়বার অংশ নিচ্ছে।২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সার্বিয়া, পোল্যান্ড, ক্যামেরুন, কোস্টারিকা, ডেনমার্ক ও ওয়েলস এবার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।বিশ্বকাপের সর্বাধিক আসরে অংশ নেওয়া দেশগুলির তালিকায় ব্রাজিল ২২টি আসর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। জার্মানি ২০টি আসর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। আর্জেন্টিনা ও ইতালি ১৮টি করে আসরে খেলেছে। মেক্সিকো ১৭টি আসরে অংশ নিয়েছে। স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড ১৬টি করে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছে।










