নয়াদিল্লি: অবধ সুগার অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ১২ মে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৩১ মার্চ ২০২৬ সমাপ্ত ত্রৈমাসিক এবং আর্থিক বছরের অনিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল অনুমোদন করেছে। সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আয়ে সামান্য বৃদ্ধি হলেও ব্যয়জনিত চাপের কারণে মুনাফায় কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে।
চলতি আর্থিক বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে সংস্থার মোট আয় হয়েছে ৬৭২ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবর্ষের একই সময়ে ছিল ৬৭৮ কোটি টাকা। এই সময়ে সুদ, কর, অবচয় ও মূল্যহ্রাস-পূর্ব আয় দাঁড়িয়েছে ১২১ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছর ছিল ১৪৯ কোটি টাকা। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৫৬ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই ত্রৈমাসিকে ছিল ৭২ কোটি টাকা।
সম্পূর্ণ আর্থিক বছরের হিসাবে সংস্থার মোট আয় বেড়ে হয়েছে ২,৬৯৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবর্ষে ছিল ২,৬৩৯ কোটি টাকা। তবে সুদ, কর, অবচয় ও মূল্যহ্রাস-পূর্ব আয় কমে ২২৬ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। আগের বছরে এই পরিমাণ ছিল ২৮০ কোটি টাকা। একইভাবে কর-পরবর্তী নিট মুনাফাও ৮৮ কোটি টাকা থেকে কমে ৫৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য প্রতি ইক্যুইটি শেয়ারে ১০ টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে, যা শেয়ারের মূল অভিহিত মূল্যের শতভাগের সমান।
ফলাফল প্রসঙ্গে অবধ সুগার অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেডের সহ-চেয়ারপার্সন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সি. এস. নোপানি বলেন, উত্তর প্রদেশের চিনি ও ইথানল শিল্প বর্তমানে উৎপাদন ও ব্যয় সংক্রান্ত কিছু স্বল্পমেয়াদি চাপের মুখোমুখি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই শিল্পের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তিনি জানান, আখ উৎপাদন ও প্রাপ্যতা হ্রাস এবং আবহাওয়াজনিত কারণে চিনির উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক আখের সহায়ক মূল্য বৃদ্ধির ফলে চিনিকলগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সরকার ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়াতে পারে। অধিক মোলাসেস বরাদ্দ এবং সম্প্রসারিত উৎপাদন ক্ষমতার কারণে উত্তর প্রদেশ চিনি ও ইথানল শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির জন্য শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৫-২৬ চিনি মরশুম শুরুর আগে হারগাঁও ইউনিটের আখ মাড়াই ক্ষমতা সফলভাবে ১০ হাজার টন থেকে বাড়িয়ে ১৩ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে। সংস্থা ভবিষ্যতেও দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী মূল্য সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।
সংস্থার চারটি চিনিকল উত্তর প্রদেশের সীতাপুর, বিজনৌর, কুশীনগর এবং শাহজাহানপুর জেলায় অবস্থিত। এই মিলগুলির সম্মিলিত আখ মাড়াই ক্ষমতা ৩৪ হাজার ৮০০ টন। এছাড়াও সংস্থার দুটি ইথানল উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৩২৫ কিলোলিটার প্রতিদিন। পাশাপাশি সংস্থাটি সহ-উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে ৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সক্ষম।










