অ্যাক্সিস ব্যাংক এর ২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক ফলাফল: চতুর্থ কোয়ার্টার নিট মুনাফা ₹৭,০৭১ কোটি‎‎

IMG-20260426-WA0031(1)

কলকাতা: ভারতের অন্যতম প্রধান বেসরকারি ব্যাংক এক্সিস ব্যাংক ২০২৬ অর্থবছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ করেছে, যেখানে শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্সের ছবি উঠে এসেছে। চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ব্যাংকের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ₹৭,০৭১ কোটি, যা আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি।‎ব্যাংকের এই প্রবৃদ্ধির পেছনে মূলত ফি-ভিত্তিক আয়ের ৮ শতাংশ বৃদ্ধি এবং সম্পদের গুণগত মান স্থিতিশীল থাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে আমানত ও ঋণ—উভয় ক্ষেত্রেই ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সিএএসএ আমানতে ৭ শতাংশ বৃদ্ধিও এই উন্নতিতে সহায়ক হয়েছে।‎পুরো অর্থবছর জুড়েই ব্যাংক দৃঢ় কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে। ঋণ বিতরণ বছরে ১৯ শতাংশ এবং মোট আমানত ১৪ শতাংশ বেড়েছে। সিএএসএ অনুপাত মাস শেষে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে।‎নিট সুদ আয় বছরে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে ফি আয় ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ৮ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে খুচরা ফি আয়ের বৃদ্ধি ছিল ১১ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্য। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে ব্যাংক অতিরিক্ত ₹২,০০১ কোটি এককালীন সংস্থানও রেখেছে।‎ঋণ ও কার্ড ব্যবসায়ও ব্যাংক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই ত্রৈমাসিকে প্রায় ১০ লক্ষ নতুন ঋণ কার্ড ইস্যু করা হয়েছে এবং মোট সক্রিয় কার্ডে ব্যাংকের বাজার অংশীদারিত্ব প্রায় ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ ঋণ বছরে ২৪ শতাংশ এবং ত্রৈমাসিকে ৬ শতাংশ বেড়েছে। কর্পোরেট ঋণ বছরে ৩৮ শতাংশ এবং ত্রৈমাসিকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যম কর্পোরেট খাতে ৩৩ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।‎গ্রাহক সুরক্ষা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করতে ব্যাংক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের মোবাইল অ্যাপে ‘নিরাপত্তা কেন্দ্র’ চালু করা হয়েছে এবং ‘এসএমএস শিল্ড’ নামে নতুন ব্যবস্থা আনা হয়েছে, যা বার্তার প্রেরকের পরিচয় যাচাই করে—এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যাংকিং ক্ষেত্রে প্রথমবার ব্যবহৃত হয়েছে।‎এছাড়া বিভিন্ন অংশীদারিত্ব ও উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংক তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় পৌঁছ বাড়াতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য স্বর্ণ ঋণ সহজলভ্য করা হয়েছে।‎নারী অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বিশেষ গবেষণা প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে ব্যাংক। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রচারাভিযানের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার করা হয়েছে।‎ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ চৌধুরী বলেছেন, “ব্যাংকিং ক্রমশ ডিজিটাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই ত্রৈমাসিকে আমরা গ্রাহকদের ক্ষমতায়ন, অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং আমাদের দলকে আরও দক্ষ করে তোলার দিকে জোর দিয়েছি। আমরা শক্তিশালীভাবে বছর শেষ করেছি এবং আগামী সময়েও একই আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাব।”

About Author

Advertisement