নয়াদিল্লি: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি(ইউসিসি) কার্যকর করার পথে বড় পদক্ষেপ নিল অসম সরকার। রাজ্য মন্ত্রিসভা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া বিল অনুমোদন করেছে এবং আগামী ২৬ মে অসম বিধানসভার অধিবেশনের শেষ দিনে সেই বিল উত্থাপন করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়ায় সম্মতি দিয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে মূলত বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, সহবাস সম্পর্কের নথিভুক্তিকরণ এবং বিবাহের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্টভাবে বলেন, অসমে প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি গুজরাট, উত্তরাখণ্ড এবং গোয়ার মডেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তবে রাজ্যের জনজাতি সম্প্রদায়ের রীতি-নীতি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক প্রথাগুলিকে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অসমে বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। সেই কারণে জনজাতি সমাজের সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতিকে কোনওভাবেই প্রভাবিত করা হবে না। প্রস্তাবিত আইনটির উদ্দেশ্য নাগরিক বিষয়গুলিতে একরূপ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কোনও সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়ে হস্তক্ষেপ করা নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত আইনে প্রধানত চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল বিবাহের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া, সহবাস সম্পর্কের নিবন্ধন এবং পারিবারিক ও বৈবাহিক অধিকার সংক্রান্ত বিধান।
যদিও এখনও পর্যন্ত বিলের পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ্যে আনা হয়নি, তবু সরকার দাবি করেছে যে আইনটি সম্পূর্ণভাবে সাংবিধানিক বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এমন একটি প্রস্তাব, যার মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক পৃথক ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে দেশের সব নাগরিকের জন্য এক অভিন্ন দেওয়ানি আইন কার্যকর করার কথা বলা হয়। বর্তমানে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক গ্রহণের মতো বিষয়গুলিতে বিভিন্ন ধর্মের জন্য পৃথক আইন কার্যকর রয়েছে।
ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে তাদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও নীতিগত কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরছে। দলের মতে, এর মাধ্যমে সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার এবং লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের একাংশের দাবি, এই আইন দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, উত্তরাখণ্ড ইতিমধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার পথে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গোয়ায় বহুদিন ধরেই এক ধরনের অভিন্ন দেওয়ানি ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং গুজরাট সরকারও একই পথে এগোচ্ছে। এখন অসম সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ভারতীয় জনতা পার্টি শাসিত রাজ্যগুলিতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার প্রচেষ্টার পরবর্তী বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।










