অমিত শাহের অভিযোগ: তোষণ-নীতির রাজনীতি করতে গিয়ে কংগ্রেস ‘বন্দে মাতরম’ ও শহীদদের অপমান করেছে

d0d91e9b-c863-431f-b9bc-6f5d876446a2

কলকাতা: ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোষণ-রাজনীতিতে লিপ্ত হওয়া এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই পদক্ষেপকে দেশবিরোধী ও বিভাজনমূলক মানসিকতারই ধারাবাহিকতা বলে অভিহিত করেছেন।
​বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অমর সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর কেবল প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার বিষয়ে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের (যা ১৯৩৭ সালের একটি প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছিল) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে শাহ বলেন, “১৯৩৭ সালে মুসলমানদের তুষ্ট করার লক্ষ্যে ‘বন্দে মাতরম’-কে দুই ভাগে বিভক্ত করে কংগ্রেস দেশের দেশভাগের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল। সেখান থেকেই ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ জোরদার হয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত দেশভাগ এবং পাকিস্তানের জন্মের দিকে ধাবিত হয়।”
বঙ্কিম বাবুর অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এর সম্পূর্ণ অংশ গাওয়া এবং সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে পরিবেশন বাধ্যতামূলক করার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তা জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করারই একটি পদক্ষেপ—শাহ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। শাহ-এর মতে, সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন ও সরকারের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে কংগ্রেস আবারও ১৯৩৭ সালের সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করেছে।
​”শাহ আরও বলেন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস দল আবারও আগ্রাসীভাবে তোষণ-নীতির রাজনীতি অনুসরণ করছে। ভোট-ব্যাংকের রাজনীতির স্বার্থে কংগ্রেস কেবল বঙ্কিম বাবুর এই অমর সৃষ্টিকেই অপমান করেনি, বরং দেশের স্বাধীনতার জন্য ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি দিতে দিতে যারা হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছিলেন, সেই লক্ষ লক্ষ শহিদের প্রতিও অসম্মান প্রদর্শন করেছে।”
এই সিদ্ধান্তকে চরম তোষণ-নীতির প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে শাহ আরও মন্তব্য করেন যে, কংগ্রেস সংসদীয় আইনের চেয়ে নিজেদের দলের অতীতের কোনো প্রস্তাবকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

About Author

Advertisement