ওয়াশিংটন: মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো তাদের প্রধান সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের এই সিদ্ধান্তের ফলে ফেডারেল ফান্ডস রেটের লক্ষ্যমাত্রার পরিসর বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশ করা হয়েছে।
ফেডারেল রিজার্ভের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে নিয়েছে। কমিটির সব ১২ জন সদস্যই সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সিদ্ধান্তের আগে বাজারে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি বলে অনুমান করা হয়েছিল।
মূল্যস্ফীতি এখনও ফেডের প্রধান উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভের জন্য মূল্যবৃদ্ধি একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতিকে ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, সাম্প্রতিক সুদের হার বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতিকে নির্ধারিত লক্ষ্যের দিকে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ফেডারেল রিজার্ভ তাদের দ্বৈত দায়িত্ব—মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা—কে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে।
মার্কিন অর্থনীতিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অব্যাহত
ফেডারেল রিজার্ভের মতে, মার্কিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনও শক্তিশালী গতিতে এগিয়ে চলছে। অভ্যন্তরীণ ভোগে শক্তিশালী প্রবণতা বজায় রয়েছে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিও ইতিবাচক। একইভাবে, মূলধনী বিনিয়োগের অবস্থাতেও উন্নতি হয়েছে।
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি কর্মক্ষম জনসংখ্যার বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বেকারত্বের হারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
তবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে মার্কিন অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডারেল রিজার্ভ।
ভারতসহ বৈশ্বিক বাজারে পড়তে পারে প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার ফলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। মার্কিন সম্পদে রিটার্ন বাড়ার প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ মার্কিন বাজারের দিকে আকৃষ্ট হতে পারে। এর ফলে ভারতসহ উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর প্রভাব ভারতীয় শেয়ারবাজার, বিদেশি বিনিয়োগ এবং ভারতীয় রুপির বিনিময় হারেও পড়তে পারে। মার্কিন ডলার শক্তিশালী হলে উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রার ওপর চাপ বাড়তে পারে। ফলে ভারতের মুদ্রানীতি ও আর্থিক বাজারও ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোর ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখবে।
ফেডারেল রিজার্ভের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন পরবর্তী বৈঠকগুলোতে সুদের হারের দিক নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।





