পূর্ব ভারতে ভোজ্যতেল মূল্যশৃঙ্খল শক্তিশালী করতে এনডিডিবির উদ্যোগ

7a86c4de-7af2-487b-b4d1-75eebc8de084

আইআইটি খড়গপুরের সঙ্গে সমঝোতা

কলকাতা: পূর্ব ভারতে ভোজ্যতেলের মূল্যশৃঙ্খল শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বা এনডিডিবি নতুন উদ্যোগ শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি বিপণন এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কলকাতার নিউ টাউনে অবস্থিত আইআইটি খড়গপুর রিসার্চ পার্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগের সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমবায় এবং খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী অশোক কীর্তানিয়ার পাশাপাশি এনডিডিবির চেয়ারম্যান ড. মীনেশ শাহ, আইআইটি খড়গপুরের পরিচালক অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তীসহ সরকারি আধিকারিক, কৃষক, সমবায় সংস্থা এবং কৃষক উৎপাদক সংগঠন বা এফপিও-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই অনুষ্ঠানে এনডিডিবি এবং আইআইটি খড়গপুরের মধ্যে ভোজ্যতেল ক্ষেত্রে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াকরণ এবং মূল্য সংযোজনের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়।
এই সমঝোতার আওতায় কৃষক সংগঠন, সমবায় এবং এফপিওগুলির সঙ্গে এনডিডিবির কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আইআইটি খড়গপুরের গবেষণা, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে। এই উদ্যোগে আইসিএআর, বার্ক, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র বা কেভিকে এবং রাজ্যের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের মধ্যে বীজের মিনি-কিট বিতরণের মাধ্যমে এই উদ্যোগের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, সর্ষে, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী এবং তিলের মতো তৈলবীজের উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি কৃষিপণ্যের সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজারে কৃষকদের প্রবেশাধিকার উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
এনডিডিবির চেয়ারম্যান ড. মীনেশ শাহ বলেন, দেশীয় তৈলবীজ উৎপাদন এবং এর সঙ্গে যুক্ত মূল্যশৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা এনডিডিবির অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, তৈলবীজ চাষকে দুগ্ধ উৎপাদন এবং অন্যান্য কৃষি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করে কৃষকদের আয়ের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করা সম্ভব।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে পূর্ব ভারতে দেশীয় তৈলবীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, মূল্য সংযোজন এবং বাজার সংযোগকে কৃষককেন্দ্রিক ও সমবায়ভিত্তিক পদ্ধতিতে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

About Author

Advertisement