তুষার পাটোয়ার
বাংলার মসনদে প্রায় ১৫ বছর সম্পন্ন করতে চলেছে মা মাটি মানুষের সরকার। এ দীর্ঘ ১৪ বছর ছয় মাসের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে নবান্ন সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী জানান বাংলার প্রতিটি বাড়িতে দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাবে উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড। আমরা মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। তাই প্রায় দেড় দশক ধরে কি কাজ করেছি তার একটা খতিয়ান মানুষের জানা দরকার। প্রসঙ্গে প্রথমেই তিনি বলেন রাজ্যের জিএসডিপির কথা। ২০১১ মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর এ রাজ্যের জিএসডিপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪. ৪১ গুন। টাকার অংক তা কুড়ি লক্ষ্য ৩১ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর প্রায় এক কোটি ৭২ লক্ষ্ মানুষকে দারিদ্র সীমার উপরে তুলে আনা হয়েছে। অর্থাৎ এই মানুষগুলি এই পরিবারগুলো আজ সচ্ছলভাবে দিনাতিপাত করেন। ছোট মাঝারি ও ভারী শিল্পের পাশাপাশি এম এস এম এস সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। শিল্প ক্ষেত্রে ২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ছয়টি নতুন অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি হয়েছে। ডেউচাপাচামি সহ অশোকনগর ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহ বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালিতে অনেক বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে সিমেন্ট কারখানা জাহাজ কারখানা ভারী যন্ত্রাংশ তৈরীর কারখানা রেলওয়ে উৎপাদন হোশিয়ারি শিল্প লেদার ইস্পাত কারখানায় কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। আমরা রাজ্যের উন্নয়নে কোন খামতি রাখিনি। স্মল স্কিল ইন্ডাস্ট্রিতে এক কোটি ৩০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ না দিলেও রাজ্য সরকার সেই প্রকল্পগুলি বন্ধ করেনি। বিশেষ করে বাংলার বাড়ি নারেগাতে আমরা নতুন করে অর্থ নিয়োগ করেছি। ৭০ দিনের কাজ আমরা দিতে পেরেছি লক্ষীর ভান্ডার সহ। লক্ষীর ভান্ডার সহ রাজ্য সরকারের প্রায় ৯৫ টি প্রকল্পে বাংলার নয় কোটি মানুষ উপকৃত দু কোটি ৪৫ লক্ষ পরিবার স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের উপকার পেয়েছেন। চোখের আলো প্রকল্পে আমরা চশমা দেওয়া সহ চোখের ছানি অপারেশন এবং অন্যান্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। এই প্রকল্পের প্রায় ৩৪ লক্ষ মানুষ উপকার পেয়েছেন। গ্রামীণ এলাকাগুলিতে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আই সি সি ইউ ভ্যান আমরা প্রদান করেছি। এর জন্য রাজ্য সরকারের ব্যয় হয়েছে ১১০ কোটি টাকা। খুব শীঘ্রই প্রদান করব আরো ২১১ টি স্বাস্থ্য পরিষেবা ভ্যান। এর জন্য ১৩০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে ধার্য করা হয়েছে। এর জন্য আমাদের সাংসদদের ধন্যবাদ সংসদ তহবিলের ৬০ কোটি টাকা এখানে ব্যয় করা হচ্ছে। বাংলা সড়ক যোজনায় ১ লক্ষ ৩১ হাজার কিমি নতুন রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। আমরা কেন্দ্রের কাছ থেকে প্রায় এক লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা এখনো পাব। রাজনৈতিক কারণে এই টাকা কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের দিচ্ছে না। তা আমরা কিন্তু উন্নয়নের কাজ বন্ধ রাখিনি। আমরা মানুষের কাছে দায়বদ্ধ উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। পানীয় জল থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য প্রকল্প কর্মসংস্থান এবং জাতি বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প আমরা নিয়ে এসেছি। বাংলার প্রতিটি পরিবার রাজ্য সরকারের সমস্ত প্রকল্পের উন্নয়ন যাতে নিতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছি। গঙ্গাসাগরের যাতায়াত সুবিধার জন্য আমরা মুড়িগঙ্গা নদীর উপর এক হাজার সাতশ কোটি টাকার টেন্ডার পাস করিয়েছি। খুব শীঘ্রই সেই কাজ শুরু হবে। সূচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সেই কাজে সূচনা করবেন। দুয়ারে রেশন প্রকল্পে সাত কোটি ৪১ লক্ষ মানুষ সুবিধা পাচ্ছেন। খাদ্য সাথী স্বাস্থ্য সাথী থেকে শুরু করে কৃষক বন্ধু প্রকল্পে কোন ক্ষান্তি রাখতে চান না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প আনা হয়েছে। ইকোপার কর্ম তীর্থ নজরুল তীর্থ, সম্পন্ন, সহ বিভিন্ন গঠনমূলক বাড়ি তৈরি করা হয়েছে এখানে তৈরি করা হয়েছে ওখানে। রাজ্যের প্রাকৃতিক ট্যুরিজম ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলার খতিয়ান অনেক উপরে। ইন্ডিয়ান ট্যুরিজম ক্যালেন্ডার হিসাব অনুযায়ী দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলা। আমরা বিভিন্ন মন্দির মসজিদের উন্নয়ন ঘটিয়েছি। রাজ্য পুলিশের জন্য নারায়নি ব্যাটালিয়ন তৈরি হচ্ছে। এই অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য পুলিশের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন শীতের এই সময়টিতে একটু কুয়াশা পড়ছে তাই সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফ কর্মসূচির মাধ্যমে আরো সচেতনতা বাড়াতে হবে। একইএকই জেলাশাসক ও ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের মুখ্যমন্ত্রী জানার যত দ্রুত সম্ভব রাজ্য সরকারের সমস্ত প্রকল্পের কাজ যেন শেষ সম্পন্ন করা হয় সে বিষয়ে নজর রাখতে। যে সমস্ত পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথচ মারা গেছে তাদের সাহায্য করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ডিএলও পরিবার গুলি যারা মারা গেছে তাদের দু লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করা হবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। যে সমস্ত পরিবারগুলি সদস্যরা চিকিৎসাধীন তাদের এক লক্ষ টাকা করে সাহায্য করা হবে। ধর্মীয় রাজনীতি করি না আমি। সকল ধর্ম সকল জাতি আমার কাছে উন্নয়নের শিকরে থাকছে।









