পাঞ্জাবে ক্রমবর্ধমান মাদক ব্যবসা, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ এবং রাজ্য সরকারের জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন

3b265ac7-a33d-43ad-9c39-cb7e78d0767b

নয়াদিল্লি: পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টি (আপ) সরকারের আমলে মাদকদ্রব্যের ব্যবসা ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে সরব হওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার কারণে প্রাণ হারানো প্রয়াত বিক্রমজিৎ সিংয়ের পরিবারের সঙ্গে গুরুদাসপুরে তাঁদের বাসভবনে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানানো হয়েছে। এই কঠিন সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই গভীর দুঃখ সহ্য করার শক্তি ও মানসিক সাহস দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
পাঞ্জাবে মাদকের ক্রমবর্ধমান নেটওয়ার্ক যুবসমাজের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকাসক্তি তরুণদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং পারিবারিক জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে এটি সমাজের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ করা, পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা এবং মাদকের বিরুদ্ধে সরব হওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে যদি নাগরিকদেরই নিজেদের অনিরাপদ মনে হয়, তাহলে তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষিত মাদকমুক্ত ভারতের সংকল্পের মূল লক্ষ্যও হলো মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, পাচারচক্রের সম্পূর্ণ নির্মূল, যুবসমাজকে মাদকের আসক্তি থেকে রক্ষা করা এবং সমাজে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলা। এই জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু ঘোষণা যথেষ্ট নয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জবাবদিহি, মাদক পাচারকারী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
পাঞ্জাবে মাদক ব্যবসার বিষয়টিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজ্য সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারী সমাজকর্মী, সচেতন নাগরিক, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং পুলিশকে তথ্য সরবরাহকারী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রয়াত বিক্রমজিৎ সিংয়ের মৃত্যুর ঘটনায়ও তথ্যভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা ন্যায়বিচারের স্বার্থে অপরিহার্য।
মাদকমুক্ত ভারতের জাতীয় সংকল্প তখনই সফল হবে, যখন দেশের প্রতিটি রাজ্যে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যুবসমাজ নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা পাবে এবং অপরাধের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা নাগরিকরা সরকারের কাছ থেকে যথাযথ সুরক্ষা পাবেন। পাঞ্জাবসহ সমগ্র ভারত থেকে মাদকের নেটওয়ার্ক নির্মূল করা, যুবসমাজের জীবন ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এবং আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী করা আজকের অন্যতম প্রধান প্রয়োজন।
প্রয়াত বিক্রমজিৎ সিংয়ের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি হবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও শক্তিশালী করা এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে বাধ্য করা। দেশের যুবসমাজকে মাদকের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে একটি নিরাপদ, সুস্থ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়াই মাদকমুক্ত ভারতের সংকল্পের প্রকৃত সার্থকতা।

About Author

Advertisement