১১০টি ওষুধের দাম ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা
নয়াদিল্লি: ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসার খরচে আর্থিক স্বস্তি দিতে ভারত সরকার অসূচিভুক্ত ক্যানসারবিরোধী ওষুধের বাণিজ্যিক মার্জিন সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি সূত্রের মতে, এই ব্যবস্থা ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষ নাগাদ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের আওতায় ব্র্যান্ডেড ও জেনেরিক, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ও আমদানি করা এবং পেটেন্টপ্রাপ্ত ও পেটেন্টবিহীন—সব ধরনের অসূচিভুক্ত ক্যানসারবিরোধী ওষুধ অন্তর্ভুক্ত হবে। এর ফলে প্রায় ১১০ ধরনের ওষুধের দাম প্রভাবিত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৫টি পেটেন্টপ্রাপ্ত ওষুধও রয়েছে।
১১০টি ওষুধের দাম ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা
সরকারি অনুমান অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট ওষুধগুলির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। ওষুধ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা, পাইকারি বিক্রেতা এবং খুচরা বিক্রেতাদের অতিরিক্ত মুনাফা নিয়ন্ত্রণ করাই এই সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য।
ক্যানসারের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় এবং ওষুধের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হওয়ায় রোগী ও তাঁদের পরিবারের ওপর বড় আর্থিক চাপ পড়ে। ওষুধের দাম কমলে চিকিৎসার খরচ হ্রাস পাবে এবং রোগীরা জীবনরক্ষাকারী ওষুধ আরও সহজে পেতে পারবেন বলে আশা করছে সরকার।
বছরে ২,৫০০ কোটি রুপি সাশ্রয়ের অনুমান
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ওষুধের বাণিজ্যিক মার্জিন নিয়ন্ত্রণের ফলে ক্যানসার রোগীদের বছরে প্রায় ২,৫০০ কোটি ভারতীয় রুপি সাশ্রয় হতে পারে।
নতুন ব্যবস্থায় ওষুধের ব্র্যান্ড, উৎপাদনকারী দেশ কিংবা পেটেন্টের অবস্থার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক মার্জিনের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম থাকবে না। সমস্ত অসূচিভুক্ত ক্যানসারবিরোধী ওষুধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাণিজ্যিক মার্জিন রাখা যাবে।
সরকারের বিশ্বাস, এই সিদ্ধান্তের সুফল ওষুধের খুচরা মূল্য হ্রাসের মাধ্যমে সরাসরি রোগীদের কাছে পৌঁছাবে। পাশাপাশি, মূল্য নিয়ন্ত্রণের কারণে যাতে ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করারও চেষ্টা করা হবে।
২০১৯ সালের ব্যবস্থার সম্প্রসারণ
এর আগে ২০১৯ সালেও ভারত সরকার কয়েকটি ক্যানসারবিরোধী ওষুধের বাণিজ্যিক মার্জিনের সীমা নির্ধারণ করেছিল। ওষুধের অতিরিক্ত দাম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে চালু হওয়া সেই ব্যবস্থারই এবার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক ওষুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়মটি সমস্ত অসূচিভুক্ত ক্যানসারবিরোধী ওষুধের ক্ষেত্রে কার্যকর করা হবে। এর ফলে ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় অযৌক্তিক মুনাফা নিয়ন্ত্রণ করা এবং রোগীদের চিকিৎসার খরচ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
সামগ্রিকভাবে, নতুন ব্যবস্থাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ক্যানসার রোগীদের ওষুধের খরচ কমতে পারে। তবে প্রতিটি ওষুধের ক্ষেত্রে মূল্য হ্রাসের পরিমাণ আলাদা হতে পারে। তাই সমস্ত ওষুধের দাম ৭০ শতাংশ কমবে, এমনটা নিশ্চিত নয়।





