অসম: মধুপুরকে বটদ্রবার আদলে বিশাল আধ্যাত্মিক–সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা

IMG-20260919-WA0055

গুয়াহাটি: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব সরমা কোচবিহারস্থিত ঐতিহাসিক মধুপুর সত্রকে বটদ্রবার আদলে উন্নয়ন করে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী সরমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক বার্তায় উল্লেখ করেছেন, মধুপুর সত্র অসমীয়া সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং মহাপুরুষদের মহান আদর্শের এক জীবন্ত প্রতীক। একশরণ নামধর্ম যে ভক্তি, সাম্য, জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের বার্তা বহন করে, আজও সেই পবিত্র ভূমি থেকে তার প্রতিধ্বনি শোনা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শঙ্করদেব, শ্রীশ্রী মাধবদেব এবং শ্রীশ্রী দামোদরদেবের সঙ্গে যুক্ত মধুপুরের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অসমের মানুষের গভীর আবেগের সঙ্গে জড়িত বলে মুখ্যমন্ত্রী সরমা জানিয়েছেন। শঙ্করদেব তাঁর জীবনের শেষ সময় মধুপুরে কাটাতে চেয়েছিলেন—এই প্রসঙ্গও স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
শর্মার মতে, উন্নয়নের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়ে মধুপুর সত্রের সংরক্ষণ, সৌন্দর্যায়ন এবং সামগ্রিক পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে মধুপুর সত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, মালতী রাভা রায় এবং অসম সরকারের মন্ত্রী অশোক সিংহল ও অশ্বিনী রায় সরকারের সঙ্গে সত্রটির সংরক্ষণ ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী সরমা জানিয়েছেন।
অসম ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে মধুপুরকে বটদ্রবার আদলে একটি বৃহৎ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
মধুপুরের সংরক্ষণ ও উন্নয়নের ফলে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটনও নতুন গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য মধুপুরকে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

About Author

Advertisement