মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম ও বিরল খনিজ পদার্থের খোঁজ
রিয়াদ: সৌদি আরবে আবারও মূল্যবান খনিজ সম্পদের বিশাল মজুদের সন্ধান পাওয়া গেছে। সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান মদিনা অঞ্চলে ১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম ও বিরল মৃত্তিকা খনিজ (রেয়ার আর্থ মিনারেলস) সমৃদ্ধ কাঁচামালের মজুদ আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।
নতুন আবিষ্কৃত এই খনিজ ভাণ্ডারের মূল্যমান এখনও স্পষ্ট নয়, তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা এর মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে। সৌদি আরবে ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ তেলের মজুদ রয়েছে এবং এখন এই নতুন ‘সম্পদ’ আবিষ্কৃত হলো।
মন্ত্রী আব্দুল আজিজের বরাতে ‘আরব নিউজ’ সোমবার জানিয়েছে যে, মদিনার জাবাল সায়িদ প্রকল্পে ভূতাত্ত্বিক জরিপের মাধ্যমে প্রায় ১১ কোটি (১১০ মিলিয়ন) টন আকরিকের একটি ভাণ্ডার শনাক্ত করা হয়েছে। এই ভাণ্ডারে বিভিন্ন মূল্যবান খনিজের পাশাপাশি রয়েছে বিরল খনিজ (বিশেষ করে ভারী মৌল) এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ইউরেনিয়াম।
সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’
আরব বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব মূলত তেল-নির্ভর। কয়েক দশক ধরে তেলই দেশটির অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব তার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের উৎসে বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমানে বেশ কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাঁর ‘ভিশন ২০৩০’ শীর্ষক জ্বালানি বৈচিত্র্যকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তেলের ওপর দেশের নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছেন। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের অভ্যন্তরে ইউরেনিয়াম উত্তোলন এবং বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের জন্য বড় অগ্রগতি
ইউরেনিয়াম-সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক আকরিকের এই আবিষ্কারটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ সৌদি আরবে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির পরপরই এটি সামনে এল। দেশ দুটি গত জুলাই মাসে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।
জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায়, সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি গড়ে তুলতে মার্কিন কোম্পানিগুলো সহায়তা প্রদান করবে। এই চুক্তিটি রিয়াদকে মার্কিন তদারকি ছাড়াই নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগও দেয়।
ইউরেনিয়ামের ব্যবহার
ইউরেনিয়াম এমন একটি ধাতু যার বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি মূলত পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউরেনিয়ামকে ঘনীভূত শক্তির এক বিপুল উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৭৮৯ সালে জার্মান রসায়নবিদ মার্টিন ক্ল্যাপরথ ‘পিচব্লেন্ড’ (pitchblende) নামক একটি খনিজে ইউরেনিয়াম আবিষ্কার করেন। এর নামকরণ করা হয়েছিল ইউরেনাস গ্রহের নামানুসারে, যা এর আট বছর আগেই আবিষ্কৃত হয়েছিল।





