নয়াদিল্লি: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের ০-৩ ব্যবধানে ‘হোয়াইটওয়াশ’ হওয়াটা কেবল একটি সিরিজ পরাজয়ই নয়; বরং এর মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে দলটির ধারাবাহিক বাজে পারফরম্যান্সের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। দেশের বাইরে দলটির পারফরম্যান্স তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে—বিদেশের মাটিতে খেলা সর্বশেষ ১২টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে পাকিস্তান জয় পেয়েছে মাত্র একটিতে। গত চার বছরে, তিন বা ততোধিক ম্যাচের সমন্বয়ে গঠিত বারোটি সিরিজের মধ্যে পাঁচবারই প্রতিপক্ষের কাছে ‘হোয়াইটওয়াশ’ বা সবকটি ম্যাচ হারার লজ্জায় পড়েছে পাকিস্তান; তবে এই ঘটনার প্রেক্ষাপট কেবল পরিসংখ্যানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে দলের শোচনীয় পারফরম্যান্স পাকিস্তান ক্রিকেটের করুণ অবস্থাকেই সবার সামনে উন্মোচন করেছে।
ইংল্যান্ড এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার কৃতিত্ব অর্জন করল। এর আগে ২০২২ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও ইংল্যান্ড একইভাবে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল।
গত চার বছরে পাকিস্তান ছয়বার প্রতিপক্ষের কাছে সবকটি ম্যাচ হেরেছে (হোয়াইটওয়াশ হয়েছে)। ফলে, তাদের সর্বশেষ বারোটি টেস্ট সিরিজের মধ্যে ছয়টিতেই এমন হতাশাজনক ফলাফলের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স বিশেষ করে উদ্বেগজনক; সেখানে খেলা সর্বশেষ বারোটি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে এবং বাকি এগারোটিতেই পরাজিত হয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি স্পষ্টভাবেই ঘরের বাইরে টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজেও পাকিস্তানের কোনো ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করতে পারেননি। এটি পাকিস্তানের দুর্বল ব্যাটিং পারফরম্যান্সেরই প্রতিফলন—এমন একটি সমস্যা যা দীর্ঘদিন ধরেই দলটিকে ভোগাচ্ছে।
সব মিলিয়ে এমন আটটি টেস্ট সিরিজ হয়েছে যেখানে কোনো ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি হয়নি। ইংল্যান্ডের মাটিতে এমন ঘটনা এর আগে মাত্র একবারই ঘটেছিল (১৮৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে)। তবে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, কোনো সেঞ্চুরি না হওয়া সত্ত্বেও এই সিরিজে মোট ২০টি হাফ-সেঞ্চুরি হয়েছে।
বার্মিংহাম টেস্ট ম্যাচে মোট ১১টি অর্ধশতক (হাফ-সেঞ্চুরি) হয়েছে, যা কোনো একটি টেস্ট ম্যাচের জন্য যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এই সিরিজে ২০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে ইংল্যান্ডের অলি রবিনসন ৮.৭৬ বোলিং গড় নিয়ে ষষ্ঠ সেরা স্থানটি অর্জন করেছেন। তাঁর চেয়ে ভালো গড় থাকা অন্য পাঁচজন বোলারও ছিলেন ইংল্যান্ডেরই; তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ ছিলেন টনি লক, যিনি ১৯৫৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭.৪৭ গড়ে ৩৪টি উইকেট নিয়েছিলেন।
পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ব্যাটিংয়ের দিক থেকে ওপেনিং পজিশন বা উদ্বোধনী জুটি ছিল সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।
সিরিজের ছয়টি ইনিংসে দলের প্রথম দুটি উইকেটের জন্য মোট মাত্র ৫৬ রান এসেছিল। ফলে প্রথম দুই উইকেটের ক্ষেত্রে গড় জুটির রান ছিল মাত্র ৪.৬৬—যা অন্তত পাঁচটি ইনিংসের কোনো টেস্ট সিরিজে কোনো দলের জন্য সর্বনিম্ন গড়।
পাকিস্তানের জন্য এই সিরিজের সবচেয়ে ইতিবাচক দিকটি ছিল রাজাউল্লাহর পারফরম্যান্স।
এজবাস্টন টেস্টে অভিষেকের সুযোগ পেয়েই তিনি তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্য দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছিলেন।
পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে নয় নম্বর পজিশনে ব্যাট করতে নেমে তিনি ৮২ রান করেন, যার মধ্যে ছিল নয়টি ছক্কা। টেস্ট ম্যাচের কোনো এক ইনিংসে কোনো পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ ছক্কা মারার তালিকায় রাজাউল্লাহ এখন যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।
১৯৯৭ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম ১২টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন।





