তিন বছরের জন্য ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র নেতৃত্ব পেল পাকিস্তান
নয়াদিল্লি: পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র (মক্কা প্যাক্ট) আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকটি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে সৌদি আরবে ‘মক্কা চুক্তি’-র স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান প্রাথমিক তিন বছরের মেয়াদে এই সাধারণ সচিবালয়ের নেতৃত্ব দেবে।
বৈঠকে শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুযায়ী, এই বৈঠকে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করেন উপ-প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এবং সেনাবাহিনী প্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে যে, এই বৈঠকে অংশগ্রহণ তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো মিত্র দেশগুলোর সাথে তাদের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন এবং এটি এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকেই তুলে ধরে।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কী?
এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি চলতি মাসের শুরুর দিকে পবিত্র নগরী মক্কায় স্বাক্ষরিত হয়।
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত এই চুক্তিটিকে মুসলিম দেশগুলোর একটি যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের পথে প্রথম সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তিটির একটি প্রধান শর্ত হলো, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণকে সকল সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
এই জোট সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও চলছে এবং বাংলাদেশ এতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
‘এই চুক্তি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়’: তুরস্ক
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন যে, মক্কা চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। তিনি বলেন, “এই চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে আত্মরক্ষামূলক নীতির ওপর ভিত্তি করে প্রণীত এবং এটি ন্যাটো জোটের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।”
ফিদান জোর দিয়ে বলেন যে, এই জোট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং অনিশ্চয়তা হ্রাস করবে। তিনি আরও জানান যে, অন্যান্য আগ্রহী দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।





