কলকাতা: কার্যক্রমের পাঁচ দশক (৫০ বছর) পূর্তি উপলক্ষে অনিল বালাজি স্টিল (এবিএস) তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যবসার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কোম্পানিটি ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি টার্নওভার অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি, এই উপলক্ষে কোম্পানিটি প্রখ্যাত অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়কে তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগের কথাও ঘোষণা করেছে।
অনুষ্ঠান চলাকালীন, কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অনিল কুমার আগরওয়াল, সিইও বীরেন্দ্র আগরওয়াল, সিএফও বিবেক আগরওয়াল, প্রোডাকশন প্রধান বলবন্ত রাই আগরওয়াল, মার্কেটিং ও ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রধান কোমল আগরওয়াল এবং ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর আবির চট্টোপাধ্যায় কোম্পানির ওয়েবসাইট এবং নতুন ব্যবসায়িক শাখা ‘ফ্যাব্রিকা’-র লোগো উন্মোচন করেন।
কারখানা সম্প্রসারণ ও বাজার কৌশল
১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘অনিল বালাজি স্টিল’-এর বর্তমান বার্ষিক টার্নওভার ১২৫ কোটি টাকারও বেশি। হাওড়ার জঙ্গলপুরে ১,০০,০০০ বর্গফুটেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত কোম্পানিটির একটি কারখানা রয়েছে, যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২৫,০০০ মেট্রিক টন। বর্তমানে কোম্পানিটির ৪২৭-এরও বেশি ডিলার এবং ১৬,৫০০-এরও বেশি ফ্যাব্রিক্যাটরের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে।
কোম্পানির ঘোষিত ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের বিস্তারিত বিবরণ:
১০০ কোটি টাকা: পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলপুর প্ল্যান্টে উৎপাদন এলাকা আরও ২,০০,০০০ বর্গফুট সম্প্রসারণের জন্য।
১০০ কোটি টাকা: অন্যান্য রাজ্য ও নতুন বাজারে ব্যবসার সম্প্রসারণের জন্য।
কোম্পানির চেয়ারম্যান অনিল কুমার আগরওয়ালের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে ওড়িশা ও উত্তর প্রদেশে নিজেদের উপস্থিতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কারখানা অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এই সম্প্রসারণের ফলে কোম্পানির কর্মীসংখ্যা ১৭৫ থেকে বেড়ে ৫০০-র বেশি হবে এবং এর ফ্যাব্রিক্রেটর নেটওয়ার্ক ৫০ হাজারে উন্নীত হবে।
আইপিও এবং ‘ফ্যাব্রিকা’ উদ্যোগ
কোম্পানির সিইও বীরেন্দ্র আগরওয়াল জানিয়েছেন যে, আগামী তিন বছরের মধ্যে এসএমই আইপিও-র মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি, আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর উপযোগী কার্যকরী স্টিল-ভিত্তিক সমাধান প্রদানের লক্ষ্যে কোম্পানিটি ‘ফ্যাব্রিকা’ নামে একটি নতুন বিভাগ চালু করেছে। এই বিভাগের আওতায় অটোমেটেড গেট, প্রি-ইঞ্জিনিয়ার্ড বিল্ডিং, গ্রিল, রেলিং, পারগোলা এবং স্থাপত্যশৈলী-ভিত্তিক সম্মুখভাগের নকশার মতো পণ্য ও পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গ্রাহক ও স্থপতিদের বিশেষ অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্যে ১৫,০০০ বর্গফুটের একটি ‘ফ্যাব্রিকা এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার’-ও স্থাপন করা হবে।









