নেপালে জাপানি এনসেফালাইটিসের উচ্চ ঝুঁকি

IMG-20260824-WA0090

মৃত্যুর হার ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে; ৩০ বছরের বেশি বয়সীদের টিকা দেওয়া হবে

কাঠমান্ডু (নেত্র বিক্রম বিমালী): নেপালজুড়ে জাপানি এনসেফালাইটিস (জে-ই) সংক্রমণ ও এর ফলে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকার একটি জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইদানীং শিশু ছাড়াও বয়স্করাও এই রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করেছেন; তাই প্রথম ধাপে ৩০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষ জাপানি এনসেফালাইটিসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া রোধ করতে নেপাল সরকার শিশুদের জন্য সংরক্ষিত টিকাগুলো অবিলম্বে ব্যবহারের এবং পরবর্তীতে সেই মজুত পুনরায় পূরণ করার একটি কৌশল গ্রহণ করেছে।
​শুধুমাত্র গত ছয় সপ্তাহে পুরো নেপালজুড়ে ৫৯ জন শনাক্ত হয়েছেন এবং ২১ জন মারা গেছেন। প্রাদেশিক তথ্য অনুযায়ী, কোশি প্রদেশে ২৪ জন আক্রান্ত ও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে; অন্যদিকে মদেশ প্রদেশে ১৯ জন আক্রান্ত ও ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একইভাবে, সুদূরপশ্চিম প্রদেশে ১৩ জন আক্রান্ত ও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে; বাগমতী প্রদেশে ১০ জন আক্রান্ত ও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে; এবং লুম্বিনি প্রদেশে ৭ জন আক্রান্ত ও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গণ্ডকী ও কর্ণালী প্রদেশেও এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে, সারা দেশে জে-ই-জনিত মৃত্যুর হার প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের গবেষণা অনুযায়ী, নেপালে মোট আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৯ শতাংশেরই কোনো টিকা নেওয়া ছিল না; অন্যদিকে, যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের মধ্যে ৮১ শতাংশেরই বয়স ছিল ৫০ বছরের বেশি। যদিও ২০০৬ সালে নেপালে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে জাপানি এনসেফালাইটিস (জেই)-এর টিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তবুও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নিয়মিত টিকা প্রদানের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এই ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে, নেপাল সরকার দেশটির সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নয়টি জেলার জন্য ৩৫ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

About Author

Advertisement