আমস্টেলভিন: নেদারল্যান্ডসের কাছে পরাজয়ের পর ভারতীয় পুরুষ দলের জন্য হকি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণ অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ভারতের জয় পাওয়াটা ছিল অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু শনিবার ১-৩ ব্যবধানে হারের পর সেমিফাইনালে ওঠার বিষয়টি আর কেবল তাদের নিজেদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে না। ভারতের আশা এখন নেদারল্যান্ডস, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের ফলাফলের ওপরও অনেকাংশে নির্ভরশীল। যদিও শনিবার ইংল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ভারতকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে, তবুও সামনের পথটা মোটেও সহজ নয়।
ভারত এখন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি কার্যত ‘নক-আউট’ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, পাশাপাশি অন্যান্য ম্যাচের ফলাফলের দিকেও কড়া নজর রাখছে। যদি সেই ম্যাচগুলোর ফলাফল ভারতের অনুকূলে না আসে, তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হবে।
ওয়াগেনার হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারত প্রথমার্ধের দুই কোয়ার্টারে নেদারল্যান্ডসকে কোনো গোল করতে দেয়নি। তবে শেষ দুই কোয়ার্টারে স্বাগতিক দল ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে তিনটি গোল আদায় করে নেয় এবং ম্যাচটি জিতে নেয়।
৪১তম মিনিটে নেদারল্যান্ডসের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ডুকো তেলগেনকাম্প। এরপরই ভারত সমতা ফেরায়; ৫২তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে হারমানপ্রীত সিং স্কোরলাইন ১-১ করেন। তবে বাকি সময়ে পরপর দুটি গোল করে ডাচ দলটি জয় নিশ্চিত করে। স্বাগতিক দলের হয়ে গোল দুটি করেন চিপ হোয়েডমেকার্স ও থাইস ভ্যান ড্যাম। আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও ভারতীয় দল ম্যাচটি আর নিজেদের অনুকূলে আনতে পারেনি।
এই জয়ের ফলে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নেদারল্যান্ডস সেমিফাইনালে পৌঁছেছে, অথচ দুটি ম্যাচ খেলেও ভারত একটিও পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি। পুল ‘ই’-তে নেদারল্যান্ডস শীর্ষস্থান দখল করে আছে, যেখানে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সংগ্রহে রয়েছে ৩ করে পয়েন্ট। বিশ্বকাপের নতুন নিয়ম অনুযায়ী আগের পর্বের পয়েন্ট এই পর্বেও যুক্ত হয়—যে নিয়মটি নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডের জন্য সুবিধাজনক হয়েছে। ফলে ভারতের তুলনায় নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার জন্য ভারতের কেবল নিজেদের ম্যাচ জিতলেই চলবে না; অন্যান্য ম্যাচের ফলাফলও তাদের অনুকূলে আসতে হবে।











