মসজিদের মাইক বন্ধের প্রতিবাদে মিছিলে সায় হাইকোর্টের

2

পুলিশি ভূমিকার তীব্র সমালোচনা বিচারপতির

কলকাতা: ধর্মস্থান থেকে মাইক খুলে নেওয়ার প্রতিবাদে শেষপর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি পেল প্রতিবাদ মিছিল। তবে মানতে হবে আদালতের বেঁধে দেওয়া কড়া শর্ত। আগামী ১১ আগস্ট রাজাবাজার থেকে মৌলালি পর্যন্ত এই মিছিল করবে ‘জমিয়ত-ই-উলেমা’। সোমবার এক মামলায় শর্তসাপেক্ষ মিছিলের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। এদিকে হাইকোর্ট সূত্রে খবর, মিছিলে সর্বোচ্চ ৭৫০ জন অংশ নিতে পারবেন। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে পুরো কর্মসূচি। এছাড়া মিছিলে কোনও ধরনের মাইক ব্যবহার করা যাবে না। এর আগে পুলিশ এই মিছিলের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল। বিষয়টি নিয়ে আদালতের এজলাসে মারাত্মক ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৩ আগস্ট আবেদনের পর কেন আবেদনকারীকে ঝুলিয়ে রেখে ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টায় তা খারিজ করার কথা জানানো হল? এত দেরিতে সিদ্ধান্ত জানানোর পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘আগেও তো বিষয়টি জানানো যেতে পারত।’
এদিন মামলাকারী সংগঠনের পক্ষে আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় রাজাবাজার-মৌলালি রুটে মিছিলের অনুমতি চান। অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী এজি সুরজিৎ মিত্র আদালতে দাবি করেন, কাজের দিনে শহরের মূল রাস্তায় এমন মিছিল হলে সাধারণ মানুষের চূড়ান্ত ভোগান্তি হবে। রাজ্য সরকারের প্রস্তাব ছিল, মিছিলের দিন বা রুট পরিবর্তন করা হোক কিংবা সদস্য সংখ্যা নামিয়ে ৩০০ করা হোক। তবে উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে একাধিক কড়া শর্ত আরোপ করে রাজাবাজার থেকেই মিছিলের অনুমতি দেন বিচারপতি।
উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে ধর্মস্থান থেকে মাইক নামানো নিয়ে জল গড়াচ্ছে অনেক দূর। কোন আইনের ভিত্তিতে এমন নির্দেশ দেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী দানিশ ফারুকি। আবার প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
অন্যদিক, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতেও পারদ চড়ছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিতর্ক এড়াতে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, সরকার নতুন কোনও আইন আনছে না, বরং ২০২০ সালের হাইকোর্টের পুরনো নির্দেশই মেনে চলা হচ্ছে। যার আওতায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৪২০০টি মসজিদ এবং ১০৯৬টি মন্দির থেকে নিয়মবহির্ভূত মাইক খোলা হয়েছে।

About Author

Advertisement