কলকাতা: প্রাক্তন বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূল নেতা অসিত মজুমদারের বিরুদ্ধে রাজ্যের কোন কোন থানায় বর্তমানে কতগুলি মামলা ঝুলছে সে ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টে এবার পেশ করতে হবে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব। সোমবার এক মামলার প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের কাছে এই মর্মে রিপোর্ট তলব করলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের এই নির্দেশে অস্বস্তিতে পুলিশ প্রশাসন।
মামলাকারীর অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতির অন্দরেও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাক্তন বিধায়কের দাবি, চুঁচুড়া থানার আইসি তাঁকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, অসিতবাবু যতবার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন, ততবারই তাঁর নামে নতুন নতুন কেস সাজানো হবে। আর এই হুমকির পর নিজের আইনি সুরক্ষার কথা ভেবেই রাজ্যের সমস্ত থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তালিকা চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এই তৃণমূল নেতা।
সোমবার হাইকোর্টে অসিত মজুমদারের পক্ষে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আদালতকে জানান, পুলিশ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অসিতবাবুকে হেনস্থা করছে। প্রথমে তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রজু করা হয়েছিল। সেই ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারও করে। কিন্তু নিম্ন আদালত থেকে তিনি জামিন পেয়ে যান। এরপরেই অসিতবাবুর বিরুদ্ধে আরও দুটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, জামিন পেয়ে থানা থেকে বেরনোর পরই অসিতবাবুকে হুমকি দেন চুঁচুড়া থানার আইসি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কালীঘাটে মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেই ফের হাজতে পুরে দেওয়া হবে। ঠিক কী কী অভিযোগে অসিতবাবুর বিরুদ্ধে একের পর এক পুলিশ কেস দেওয়া হচ্ছে, তা পরিষ্কার করতে পুলিশের কাছে রিপোর্ট চান বিচারপতি।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই কলকাতায় দলের একটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল হুগলির এই দাপুটে তৃণমূল নেতার। অভিযোগ, সেই সভায় যাওয়া আটকাতেই সেদিন সকালে অসিতবাবুকে নাটকীয়ভাবে প্রথমে আটক এবং পরে গ্রেফতার করে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। একটি পুরনো তোলাবাজির মামলায় এই গ্রেফতারি দেখানো হয়েছিল। পুলিশের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছিল, সিবিআই পরিচয়ে অসিতবাবুর বাড়িতে টাকা তুলতে গিয়ে ধরা পড়া এক অভিযুক্তকে শনাক্ত করতেই তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। যদিও সেই দিনই বিকেলেই ৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে চুঁচুড়া আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান অসিতবাবু।
দলের অন্দরে যতই টানাপোড়েন চলুক না কেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হিসেবেই বহাল আছেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন অসিত মজুমদার। কিন্তু থানার আইসি-র দেওয়া খোলা হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে এবার নিজের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত পুলিশি মামলার খাঁড়া সম্পর্কে নিশ্চিত হতেই হাইকোর্টের দরজায় করা নেড়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক। আগামী দিনে হাইকোর্টে পেশ করা পুলিশের রিপোর্টে নতুন কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।










