হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে বার্তা তসলিমার

IMG-20260804-WA0068

কলকাতা: শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করুন। এমনটাই চান তসলিমা নাসরিন। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সব রাজনৈতিক দলেরই রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। লেখিকার স্পষ্ট বার্তা, শেখ হাসিনাকে আবার ফিরতে দেওয়া হোক বাংলাদেশে। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার পাটিহাটিতে যান তসলিমা। সেখানে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে মৌলবাদীদের প্রভাব নিয়ে সরব তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার দলের উপরে যে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। ওই দলটিকেও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হোক।’ নির্বাসিত লেখিকা জানান, তাঁরও বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে। কিন্তু তাঁকে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর মতে, রাজনীতি ধর্মভিত্তিক হলেই তা নারীবিদ্বেষী হয়ে উঠবে। তসলিমা বলেন, ‘মুসলিম মৌলবাদীরা বেগম রোকেয়াকে কবর দেওয়ারও জায়গা দেয়নি। কারণ উনি নারীবাদী লেখিকা ছিলেন। উনি মৌলবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। নারীশিক্ষার পক্ষে সংগ্রাম করেছেন। সেই জন্য যাঁরা নারীবিদ্বেষী মুসলিম মৌলবাদী, তাঁরা তাঁকে জায়গা দেয়নি কবর দেওয়ার জন্য। রাতের অন্ধকারে এই পানিহাটিতে নিয়ে এসে তাঁকে কবর দেওয়া হয়। তাঁকে সম্মান এবং মুসলিম মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এখানে এসেছি।’সেই সূত্রে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরোধিতা করেও তসলিমা বলেন, ‘ধর্মীয় রাজনীতি নারীবিদ্বেষী এবং সমাজের পক্ষে ক্ষতিকর। বাংলাদেশে জামাতে ইসলামির রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে আমার আপত্তি থাকবে না। কারণ, দলটি শরিয়ত আইন ও নারীবিরোধী নীতির পক্ষে অবস্থান নেয়, যা সংখ্যালঘু ও নারীদের অধিকারের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।’ বেগম রোকেয়াকে শ্রদ্ধার জানাতে গিয়ে তসলিমা জানান, ‘‘১৯৩২ সালে রোকেয়ার মৃত্যুর পর কলকাতার মৌলবাদী মুসলিমরা তাঁকে সমাধির জন্য জায়গা দেয়নি। রাতের অন্ধকারে এখানে এনে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। উনি নারীশিক্ষা ও প্রগতিশীলতার জন্য অনেক সংগ্রাম করেছেন, লেখিকাও ছিলেন। সেদিক থেকে আমার অগ্রজ। আমি একজন লেখিকা হয়ে তাঁকে আজ শ্রদ্ধা জানালাম।” এ দিন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পক্ষে সওয়াল করেছেন তসলিমা। বলেন, ‘উপমহাদেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে ধর্ম নির্বিশেষে সকল নারী সমান অধিকার পাবেন। বাংলাদেশে হিন্দু নারীরাও ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের আওতায় থাকায় সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। আইন ধর্মের ভিত্তিতে নয়, সমতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।’

About Author

Advertisement