নিউ ইয়র্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচের ঠিক পরপরই মাঠে যে সহিংস ধস্তাধস্তি ও অসদাচরণের ঘটনা ঘটেছিল, তার প্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা)।
স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচের পর মাঠের মধ্যে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের মধ্যে হওয়া তর্ক-বিতর্ক, ধস্তাধস্তি এবং আক্রমণাত্মক আচরণ নিয়ে ম্যাচ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর ফিফা এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, শিরোপা জয়ের উদযাপনে মত্ত স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও স্টাফ সদস্যের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি ওলমোর মুখে ঘুষি মারছেন।
পাশাপাশি, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির সাথে সংঘর্ষে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনাকে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির সাথে ধস্তাধস্তি করতে এবং তাঁকে লাথি মারার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
এরই মধ্যে, আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি ম্যানচেস্টার সিটিতে তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ রদ্রি ও আইমেরিক লাপোর্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তাঁরা ম্যাচের আগে রেফারিকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মন্তব্য করেছিলেন।
স্টপেজ টাইমের সময় মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করার দায়ে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে এনজো নিজের আচরণের জন্য ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।
ম্যাচ-পরবর্তী প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছিল যে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকেও লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। তবে ফিফা স্পষ্ট করেছে যে, খেলার শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠে তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; যদিও তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এখন তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঝুঁকি রয়েছে।
ম্যাচ চলাকালীন কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারও বিতর্কের মুখে পড়েন। খেলার শুরুর দিকে দানি ওলমোকে বিপজ্জনকভাবে ট্যাকল করার পরও ম্যাক অ্যালিস্টার অল্পের জন্য শাস্তির হাত থেকে বেঁচে যান; অন্যদিকে, স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়াকে লাল কার্ড দেখানোর জন্য রেফারির ওপর অন্যায্য চাপ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ ওঠে মেসির বিরুদ্ধে। ফাইনাল ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বর্জনও করেন।
রেফারি স্লাভকো ভিনচিচসহ ম্যাচের সকল কর্মকর্তার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর ফিফা এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। এছাড়া, লিয়ান্দ্রো পারেদেসসহ দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারেন। তবে আপাতত, তদন্ত শেষ করার জন্য ফিফা কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি।





