হরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের সাহসী পদক্ষেপ: নিরাপত্তার অজুহাতে ২০ শতাংশ ‘সুরক্ষা কর’ আরোপ

20b3cc27-475d-4358-959a-55f8bd7c3518

উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে তোলপাড়; পদক্ষেপটিকে নিয়ে ইরানের উপহাস

নয়াদিল্লি: ওই এলাকায় নিরাপত্তা অভিযানের খরচ পুষিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি পণ্যবাহী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ‘সুরক্ষা ফি’ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত উপসাগরীয় অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ধনী মিত্রদেশ—যেমন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত—এবং সেই সঙ্গে ইসরায়েলের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই পদক্ষেপটিকে মুঘল আমলের ‘জিজিয়া কর’-এর সাথে তুলনা করা হচ্ছে, যা অমুসলিমদের সুরক্ষার বিনিময়ে আরোপ করা হতো।
যুক্তরাষ্ট্র হতে যাচ্ছে ‘হরমুজ প্রণালীর প্রহরী’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন: “এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘হরমুজ প্রণালীর প্রহরী’ হিসেবে পরিচিত হবে। এই সংবেদনশীল সামুদ্রিক পথটি সুরক্ষিত রাখার খরচ মেটাতে, এর মধ্য দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি পণ্যবাহী চালানের ওপর ২০ শতাংশ ফি ধার্য করা হবে।”
​ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অঞ্চলটিকে সুরক্ষা দিচ্ছি। তাই, আমরা যে নিরাপত্তা প্রদান করছি তার জন্য আমাদের অর্থ প্রদান করা উচিত। অন্যান্য দেশগুলো অত্যন্ত ধনী এবং আমাদের মিত্র; আমরা আর বিনামূল্যে এমনটা চালিয়ে যেতে পারি না।”
​উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ
ট্রাম্পের এই একতরফা ঘোষণায় উপসাগরীয় দেশগুলো অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। আরব কূটনীতিকরা বলছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের সাথে কোনো পরামর্শ করেনি; অথচ এখন তাঁদেরকেই ইরানের পাল্টা আক্রমণের ধকল সইতে হচ্ছে।
​কাতার থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
ইরানের খোঁচা: “২০ শতাংশ মাশুল অত্যধিক।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার বিষয়ে ইরান কটাক্ষ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মন্তব্য করেছেন যে, নিরাপত্তা প্রদানকারী যে পারিশ্রমিক পাওয়ার যোগ্য—মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কথাটি সঠিক হলেও, ২০ শতাংশ ফি অত্যধিক।
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীর প্রকৃত অভিভাবক হলো ইরান—যুক্তরাষ্ট্র নয়।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, তা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এবং বিশ্ব অর্থনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

About Author

Advertisement