সহজ পদ্ধতিতে এবং স্বচ্ছ ভাবে সংগ্রহের জন্য ‘পাট-মিত্র’ (PAAT-MITRO) অ্যাপে স্লট বুকিং ব্যবস্থা চালু হচ্ছে
কলকাতা: কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দ্য জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (JCI), আজ ২০২৬-২৭ বছরের জন্য পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) ঘোষণা করেছে। এর ফলে, পাট চাষিদের স্বার্থ রক্ষা এবং পাট ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার কাজে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করে।
দ্য জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী সঞ্জয় কুমার পাণিগ্রাহী, ন্যাশনাল জুট বোর্ডের সচিব শ্রী শশী ভূষণ সিং, ডেপুটি জুট কমিশনার শ্রী নীরজ কুলহারী এবং জেসআই (JCI)-এর জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশনস অ্যান্ড মার্কেটিং) শ্রী কল্যাণ কুমার মজুমদার উপস্থিতিতে এক সাংবাদিক বৈঠকের সময় এই ঘোষণা করা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬-২৭ বছরের জন্য টিডি-৩ (মিডল গ্রেড) কাঁচা পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য প্রতি কুইন্টাল ৫,৯२৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এটি এ বছর ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিভিন্ন শ্রেণীর উৎপাদিত পাট জাতীয় পণ্যের জন্য চাষিদের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করতে জুট কমিশনারের কার্য্যালয় তোষা, সাদা পাট এবং মেস্তা/বিমলির গ্রেড-ভিত্তিক এবং জাত-ভিত্তিক এমএসপি (MSP) হারও বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করেছে।
এমএসপি প্রকল্প চাষিদের নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করে এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা কবচ হিসাবে কাজ করে।
সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ঃ শ্রী শশী ভূষণ সিং দেশের লক্ষ লক্ষ পাট চাষির কল্যাণ এবং পাট ক্ষেত্রের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং প্রযুক্তি-চালিত হস্তক্ষেপের ফলে, পাট-কেন্দ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে সুস্থায়ী পদ্ধতিতে চাষের প্রসার ঘটছে এবং চাষিদের আয় বৃদ্ধি হচ্ছে।
আধিকারিকরা ব্যাখ্যা করে বলেছেন, এমএসপি প্রকল্পের অধীনে চাষিদের প্রদেয় অর্থ সরাসরি আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে, যেটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সময়মতো অর্থ প্রদান নিশ্চিত করে। তাঁরা পাট চাষের এলাকা যাচাই করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপরও আলোকপাত করেন, যা সঠিক সংগ্রহ অভিযান এবং কৃষক-কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলির কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভবপর করে তোলে।
দ্য জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (JCI) লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তাদের ‘পাট-মিত্র’ (PAAT-MITRO) মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটি চাষিদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা অব্যাহত রেখেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- ন্যূনতম সহায়ক মূল্য
- ক্রয় কেন্দ্রের অবস্থান
- আবহাওয়ার পূর্বাভাস
- কৃষি-পরামর্শ
- পেমেন্টের স্থিতি
চলতি বছর থেকে এই অ্যাপ্লিকেশনটিতে একটি স্লট বুকিং ব্যবস্থাও চালু করা হবে, যাতে চাষিরা আগে থেকেই সংগ্রহের স্লট বুক করতে পারবেন। এর ফলে অপেক্ষার সময় কমবে, সংগ্রহ অভিযান সুবিন্যস্ত হবে এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
জেসিআই (JCI) চাষিদের ফসল বিমার সুবিধা পেতে সাহায্য করছে এবং একইসঙ্গে সুস্থায়ী পদ্ধতিতে পাট চাষ এবং পাট চাষে কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যযুক্ত ব্যবস্থাগুলির প্রসার ঘটাচ্ছে।
জেসিআই কাঁচা পাটের গ্রেডিং মান এবং বাজারযোগ্যতা উন্নত করার উদ্দেশ্যে বৃহৎ পরিসরে কৃষক সমীক্ষা পরিচালনা করে, জুট গ্রেডিং ল্যাবরেটরিগুলির মাধ্যমে গুণমান সংক্রান্ত সচেতনতা জোরদার করার প্রয়াস চালায় এবং এর পাশাপাশি এই সংস্থা শিক্ষানবিশ (অ্যাপ্রেন্টিস) প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করাও অব্যাহত রেখেছে।
এমএসপি সংক্রান্ত কাজকর্ম ছাড়াও, জেসিআই (JCI) স্বনির্ভর গোষ্ঠী, সমবায় এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দ্বারা উৎপাদিত পাটের বহুমুখী পণ্যগুলির (JDPs) প্রসার ঘটাচ্ছে।
এই উদ্যোগগুলি গ্রামীণ এলাকায় অতিরিক্ত জীবিকার সুযোগ তৈরি করছে, সঙ্গে সঙ্গে, পরিবেশগতভাবে এবং জৈব-পচনশীল পাট-ভিত্তিক পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহারকে উৎসাহিত করছে।
সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত উদ্যোগগুলির কথা তুলে ধরে জেসিআই (JCI) কতৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ন্যাশনাল জুট বোর্ড বা জাতীয় পাট পর্ষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত জুট-আইকেয়ার (Jute-ICARE) প্রকল্পটি বর্তমানে তার দ্বাদশ দফায় প্রবেশ করেছে এবং আইসিএআর-সিআরআইজেএএফ (ICAR-CRIJAF), আইসিএআর-নিনফেট (ICAR-NINFET) ও জেসিআই (JCI)-এর যৌথ সহযোগিতায় উন্নত চাষ পদ্ধতির প্রসার ঘটিয়ে ৫.৬ লক্ষেরও বেশি চাষিকে উপকৃত করেছে।
কর্পোরেশন ইসরো (ISRO)-র ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার (NRSC)-এর যৌথ সহযোগিতায় একটি ভূ-স্থানিক ফসল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (Geospatial Crop Monitoring System)-ও তৈরি করছে, যাতে দেশজুড়ে পাট চাষের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয়।
১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত জেসিআই (JCI) দেশের পাট চাষিদের সেবায় ৫৪টি বছর অতিক্রম করল। এই বছর ৫৫-তে পড়ল এই সংস্থা।









