হরমুজ প্রণালী বন্ধে কাতারের গ্যাস রপ্তানি কার্যত স্তব্ধ

4972bc60-16af-11f1-9120-a910fc22c6ac

অর্থনীতি ৮.৬ শতাংশ সঙ্কুচিত হওয়ার আশঙ্কা

দোহা: পারস্য উপসাগরীয় ছোট মরু দেশ কাতার একসময় মূলত মুক্তোর ব্যবসার উপর নির্ভরশীল ছিল। পরে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল ভাণ্ডারের জোরে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হয়। নব্বইয়ের দশক থেকে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি করে বিপুল আয় করেছে দেশটি। সেই অর্থেই বদলে যায় কাতারের মরুভূমির চেহারা।
‎কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাতারের সঙ্গে বিশ্বের সমুদ্রপথের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে দেশটির অর্থনীতি এখন গভীর মন্দার আশঙ্কার মুখে দাঁড়িয়ে।
‎রাস লাফানে ইরানের হামলা, উৎপাদনে বড় ধাক্কা
‎কাতারের গ্যাস অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাস লাফান এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও মানববিহীন আকাশযানের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর জেরে কাতারের গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দেশের বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি হামাদ বন্দরে জাহাজ চলাচলও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
‎অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কাতারের অর্থনীতি মূলত গ্যাস রপ্তানির উপর নির্ভরশীল। ফলে গ্যাস বিক্রি ও জাহাজ পরিবহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাতার এনার্জি প্রতিদিন বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
‎মোট দেশজ উৎপাদনে ধস, পর্যটনেও মারাত্মক প্রভাব
‎তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে চলতি বছরে কাতারের অর্থনীতি প্রায় ৮.৬ শতাংশ পর্যন্ত সঙ্কুচিত হতে পারে।
‎যুদ্ধের কারণে কাতারের পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমেরিকাসহ একাধিক দেশ ভ্রমণ সতর্কতা জারি করায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। বিশ্ব ভ্রমণ ও পর্যটন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার পর্যটন খাতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কাতারের বিলাসবহুল হোটেল ও বাজারগুলিতে।
‎আকাশপথে পণ্য আমদানি, ভারতের উপরও প্রভাব
‎কাতার তার প্রয়োজনীয় খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। সমুদ্রপথ বন্ধ থাকায় এখন শাকসবজি ও খাদ্যশস্য ব্যয়বহুল আকাশপথে অথবা সৌদি আরব হয়ে ট্রাকে করে আনা হচ্ছে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বিপুল ভর্তুকিও দিচ্ছে।
‎এই সঙ্কটের প্রভাব ভারতের উপরও পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ ভারত তার মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রায় ৪০ থেকে ৪৭ শতাংশ কাতার থেকে সংগ্রহ করে। ফলে কাতারের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ভারতের রান্নার গ্যাস সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
‎তবে কাতারের কাছে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল রয়েছে। সেই অর্থের জোরে দেশটি কয়েক বছর আয় না হলেও সরকারি পরিষেবা চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিদেশি সংস্থাগুলিকে দেশে ধরে রাখাই এখন কাতারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

About Author

Advertisement