দেবেন্দ্র কিশোর
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা এবং “থালাপতি” নামে পরিচিত বিজয় এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। কয়েক বছর আগেই রাজনীতিতে প্রবেশ করা বিজয় নিজের দল তামিলগা ভেত্রি কাজগম (টিভিকে) গঠন করে ক্ষমতায় এসেছেন, যা ভারতীয় রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের মতো দলগুলোর প্রভাব থাকা তামিলনাড়ুতে এবার জনগণ নতুন বিকল্পকে বেছে নিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই বিজয়ের নেওয়া তিনটি সিদ্ধান্ত এখন ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে। প্রথমত, প্রতিটি পরিবারকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার ঘোষণা। এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে, এমন সময় এই পদক্ষেপকে জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে রাজ্যের আর্থিক চাপও বাড়তে পারে।
দ্বিতীয়ত, মাদকাসক্তি ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধে প্রতিটি জেলায় বিশেষ বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত। যুবসমাজের মধ্যে বাড়তে থাকা মাদকের সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক ব্যবসা ও আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, তাই বিজয় সরকার এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
তৃতীয়ত, নারীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন। সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে। নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার ঘটনাগুলোর প্রতি সরকার যে সংবেদনশীল, এই সিদ্ধান্ত তারই বার্তা দিচ্ছে। যদি এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে নারীদের আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিজয়ের উত্থান এটাও প্রমাণ করেছে যে ভারতীয় রাজনীতিতে চলচ্চিত্র তারকাদের প্রভাব এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। সিনেমায় “জনতার নায়ক” হিসেবে পরিচিত বিজয়ের সামনে এখন বাস্তব রাজনীতিতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। আপাতত তামিলনাড়ুতে পরিবর্তনের আশা এবং নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে উৎসাহ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।









