নয়াদিল্লি: ইতিহাস প্রায়ই এমন কিছু সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গড়ে ওঠে, যা নেওয়া হয় সংকট বা হতাশার মুহূর্তে। ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপনকারী জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের জীবনও এমনই এক ইতিহাসের সাক্ষী।
এক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন মধ্য এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্লান্ত হয়ে বাবর সব কিছু ছেড়ে চীনে গিয়ে বসবাস করার পরিকল্পনা করেছিলেন। ইতিহাসবিদদের মতে, যদি তিনি সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকতেন, তবে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত।
শৈশবের সংগ্রাম ও সমরকন্দের স্বপ্ন
১৪৮৩ সালে জন্মগ্রহণকারী বাবর মাত্র ১২ বছর বয়সে ফারগানা (বর্তমান উজবেকিস্তান) অঞ্চলের শাসক হন। তাঁর পিতার দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পর থেকেই আত্মীয়স্বজনদের পক্ষ থেকে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা শুরু হয়। জীবনের শুরুর দিকেই তাঁকে পরিবার ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছিল।
তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল পূর্বপুরুষ তিমুরের রাজধানী সমরকন্দের শাসনভার গ্রহণ করা। তিনি একাধিকবার সমরকন্দ দখল করলেও প্রতিবারই তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন।
বাবরনামা: হতাশা ও চীন যাওয়ার চিন্তা
বাবরের আত্মজীবনী “বাবরনামা” তাঁর জীবনের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, সমরকন্দ ও ফারগানা হারানোর পর তিনি গভীর হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন।
সেই সময়েই তাঁর মনে চীনের দিকে যাওয়ার চিন্তা জন্মায়, যাতে তিনি সব রাজনীতি ছেড়ে শান্ত জীবন যাপন করতে পারেন। এমনকি সেই উদ্দেশ্যে প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন তিনি। “বাবরনামা” অনুযায়ী, এটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়, যখন তিনি এক প্রকার নির্বাসিত যোদ্ধার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।
ভাগ্যের মোড়: কাবুল থেকে পানিপথ
তবে বাবরের ভাগ্য তাঁকে চীনের পরিবর্তে দক্ষিণ দিকে নিয়ে যায়। ১৫০৪ সালে তিনি কাবুল দখল করেন, যা তাঁর মধ্যে আবার বৃহৎ সাম্রাজ্য গঠনের আশা জাগিয়ে তোলে।
এরপর তিনি পূর্বদিকে অগ্রসর হন এবং ভারতের সমৃদ্ধির দিকে তাঁর দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। অবশেষে ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের সূচনা করেন, যা পরবর্তী প্রায় তিন শতাব্দী ধরে ভারতবর্ষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।









