নয়াদিল্লি: ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে ২০ এপ্রিল এমন একটি দিন, যা একদিকে বিশ্বকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া এক চরিত্রের জন্মের কথা মনে করিয়ে দেয়, অন্যদিকে বিজ্ঞান, রাজনীতি ও মানবতার নানা দিক তুলে ধরে। ১৮৮৯ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন অ্যাডলফ হিটলার, যাকে ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক হিসেবে ধরা হয়।
নাজি পার্টি-এর প্রতিষ্ঠাতা হিটলারের সম্প্রসারণবাদী নীতি ও উগ্র জাতীয়তাবাদ বিশ্বকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-এর ভয়াবহতায় ঠেলে দেয়, যেখানে কোটি কোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বিশেষ করে ইহুদিদের বিরুদ্ধে তার ঘৃণার নীতির ফলে ‘হলোকাস্ট’-এর মতো নির্মম গণহত্যা সংঘটিত হয়, যাতে প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদি নিহত হন। ১৯৪৫ সালে বার্লিনের একটি বাঙ্কারে আত্মহত্যা করা হিটলারের জীবন আজও চরমপন্থা ও ঘৃণার বিপদ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেয়।
এই দিনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলি মানব সভ্যতার অগ্রগতি ও পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে।
১৭৭৭ সালে নিউ ইয়র্ক একটি স্বাধীন রাজ্য হিসেবে নতুন সংবিধান গ্রহণ করে, যা আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
১৯০২ সালে মেরি কুরি এবং পিয়েরে কুরি রেডিয়াম ও পোলোনিয়ামের মতো তেজস্ক্রিয় মৌল পৃথক করতে সফল হয়ে বিজ্ঞানের গতিপথ বদলে দেন।
১৯৪৬ সালে লীগ অফ নেশন্স বিলুপ্ত করা হয়।
মহাকাশ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৬ চন্দ্র অবতরণ এবং ২০১১ সালে ইসরো-র পিএসএলভি-এর মাধ্যমে তিনটি উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
ভারতের রাজনীতিতে ১৯৯৭ সালে ইন্দর কুমার গুজরাল দেশের দ্বাদশ প্রধানমন্ত্রী হন, আর ২০০৬ সালে ভারত তাজিকিস্তানে তার প্রথম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের ঘোষণা দেয়।
এই দিনটি বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্ম ও মৃত্যুর সাক্ষীও। চন্দ্রবাবু নাইডু, উড়িয়া সাহিত্যিক গোপীনাথ মহান্তি এবং অভিনেত্রী মমতা কুলকার্নি-এর জন্ম এই দিনেই।
অন্যদিকে ‘ড্রাকুলা’-এর লেখক ব্রাম স্টোকার, প্রখ্যাত বাঁশিবাদক পন্নালাল ঘোষ এবং গীতিকার শাকিল বদায়ূনি এই দিনেই পৃথিবীকে বিদায় জানান।
এছাড়াও, আজকের দিনটি হোমিওপ্যাথির জনক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান-এর জন্মবার্ষিকী এবং ‘ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ’ হিসেবেও পালিত হয়।
ইতিহাসের এই উত্থান-পতন ২০ এপ্রিলকে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ভাবনার দিন করে তুলেছে।









