ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পদ থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করতে ২৫তম সাংবিধানিক সংশোধনীর অধীনে একটি বিশেষ কমিশন গঠনের জন্য একটি বিল উত্থাপন করেছেন।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী উপ-রাষ্ট্রপতি জে.ডি. ভান্সের সঙ্গে সমন্বয় করে ১৭ সদস্যের একটি ‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা মূল্যায়ন কমিশন’ গঠন করা হবে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করবে।
বিলটি প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটির র্যাঙ্কিং সদস্য জেমি রাসকিন কর্তৃক মঙ্গলবার পেশ করা হয়। এতে ৫০ জনেরও বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্য সহ-সমর্থক হিসেবে রয়েছেন।
কমিশনের কাঠামো ও কার্যাবলি:
প্রস্তাবিত কমিশনে সাবেক উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, চিকিৎসক, মনোচিকিৎসক এবং একজন সভাপতি থাকবেন। এরা সকলেই বর্তমান সরকারি পদে নিয়োজিত নন।
এই কমিশন ২৫তম সংশোধনীর ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট তাঁর দায়িত্ব পালনে অক্ষম কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে। যদি উপ-রাষ্ট্রপতি ভান্স কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে নেন, তবে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
যদি বিরোধ দেখা দেয়, তবে ২১ দিনের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ:
প্রস্তাবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও আচরণকে ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনপ্রণেতারা তাঁর ইরান সংক্রান্ত মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট এবং পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত বক্তব্যকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন।
জেমি রাসকিন বলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বের সক্ষমতার ওপর জনগণের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু।
সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি:
বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধি পরিষদে এই বিল পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এখন পর্যন্ত কোনো রিপাবলিকান সদস্য ট্রাম্পের মানসিক অক্ষমতার পক্ষে প্রকাশ্যে মত দেননি।
এর আগে ২০২৪ সালে জো বাইডেনের কর্মক্ষমতা নিয়েও ২৫তম সংশোধনীর দাবি উঠেছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সফল হয়নি।
হোয়াইট হাউস এই উদ্যোগকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।










