নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারতের ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর ফলে দেশের নির্মাতা ও রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজার খুলে যাবে। বাজেট অধিবেশনের সূচনায় বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন চত্বরে তাঁর ঐতিহ্যবাহী ভাষণে তিনি শিল্পজগতকে এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা সমস্যাগুলি কাটিয়ে উঠে এখন দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, এটি বাধা সৃষ্টি করার সময় নয়, বরং সমাধান খোঁজার সময়।
মোদি বলেন, তাঁর সরকার কেবল ফাইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “দেশের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের জন্য নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপেই আমাদের অগ্রাধিকার সবসময় মানব-কেন্দ্রিক।
আত্মবিশ্বাসী ভারত:
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ভারত আজ গোটা বিশ্বের কাছে আশার আলো হয়ে উঠেছে। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, ইইউ-এর সঙ্গে এফটিএ এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারতের চিন্তাধারার প্রতিফলন এবং এতে ভারতীয় উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, “২৭ সদস্যবিশিষ্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহের একটি নতুন বাজার খুলে গেছে।” প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় শিল্পকে এই বাজারগুলিতে নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
‘মাদার অফ অল ডিলস’:
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মঙ্গলবার এফটিএ-সংক্রান্ত আলোচনার সমাপ্তির ঘোষণা করেছে। এই চুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলা হচ্ছে। প্রায় দুই দশক ধরে চলা আলোচনার পর এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের ৯৩ শতাংশ রপ্তানি ইউরোপীয় ইউনিয়নে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিলাসবহুল গাড়ি ও ওয়াইন আমদানি সস্তা হবে।
এই চুক্তির ফলে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় দুইশো কোটি মানুষের একটি যৌথ বাজার তৈরি হবে। ভারত বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি, আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বুধবার সংসদের যৌথ অধিবেশনে যে ভাষণ দিয়েছেন, তার উল্লেখ করে বলেন, সেটি ১৪০ কোটি নাগরিকের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন এবং তাতে দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট। তিনি আরও জানান, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রবিবার টানা নবম বাজেট পেশ করতে চলেছেন, যা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি গৌরবময় অধ্যায়।










