নয়াদিল্লি ১৯ জানুয়ারি (বিস): ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা টি–২০ বিশ্বকাপে খেলতে অস্বীকার করার অবস্থানে অনড় থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশকে হয় ভারতে খেলতে হবে, নচেৎ টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
আইসিসি বাংলাদেশের সেই দাবিও খারিজ করে দিয়েছে, যেখানে তারা নিজেদের গ্রুপ বদল করে সব গ্রুপ ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলতে চেয়েছিল। বাংলাদেশ চেয়েছিল, তাকে এমন গ্রুপে রাখা হোক যেখানে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ড রয়েছে এবং আয়ারল্যান্ডকে অন্য গ্রুপে পাঠানো হোক যাতে তারা ভারতে খেলতে পারে।
তবে আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, দুই দিন আগে বাংলাদেশ সফরে যাওয়া আইসিসি প্রতিনিধিদলের সামনে বিসিবি এই দাবি জানায়নি। বরং বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরা হয়, যাকে আইসিসি খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।
এদিকে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডও বাংলাদেশের দাবির বিরোধিতা করেছে। তারা জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হওয়া উচিত। কোনো পরিবর্তন হলে খেলোয়াড়দের অসুবিধা হবে।
২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা~
সূত্রের খবর, আইসিসি বাংলাদেশকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতে খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দিয়েছে। যদি ওই সময়ের মধ্যে বিসিবি ভারতে খেলতে রাজি না হয়, তাহলে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আইসিসির বক্তব্য, এখন সময় খুব কম এবং টুর্নামেন্টের বেশিরভাগ প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। টি–২০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে বাংলাদেশ ভারতে নিজেদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেখানে খেলতে অস্বীকার করছে। বিতর্ক আরও বেড়েছে যখন আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেয়।
এর পর বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। দেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা একে “জাতীয় অপমান” বলে অভিহিত করে বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এবং খেলোয়াড়দের ভারতে পাঠানো উচিত নয়। এরপর থেকেই বিসিবি দাবি জানিয়ে আসছে যে বাংলাদেশের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় করানো হোক, যেমন আগে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। আইসিসি এখন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই বিষয়ে আর কোনো সমঝোতা হবে না।










