কলকাতা: ভারতের রেডিয়েশন অনকোলজিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের ৪৫তম জাতীয় সম্মেলন ‘এআরওআইকন ২০২৫’, ২৭ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অনকোলজি সম্মেলন হিসেবে পরিচিত এই ইভেন্টে দেশ-বিদেশের (যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ ও আসিয়ান দেশসহ) ১৮০০-র বেশি বিশেষজ্ঞ, প্রতিনিধি ও অতিথি অংশ নেন।সম্মেলনে অত্যাধুনিক ক্যানসার চিকিৎসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়—প্রিসিশন রেডিয়েশন থেরাপি, পার্সোনালাইজড মেডিসিন, ক্যানসার কেয়ারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, সারভাইভারশিপ, গুণগত জীবন, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, অনকোলজি-ভিত্তিক উদ্যোক্তা উন্নয়ন। এছাড়া কী-নোট বক্তৃতা, প্যানেল আলোচনা, বৈজ্ঞানিক সেশন, কেস-ভিত্তিক শিক্ষণ এবং হাতে-কলমে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়।ডা. সুমন মল্লিক, আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান, জানান—ক্যানসার চিকিৎসায় রেডিয়েশন থেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং মোট ক্যানসার রোগীর ৫০ শতাংশেরও বেশি কোনও না কোনও পর্যায়ে রেডিয়েশন থেরাপির প্রয়োজন হয়। কিন্তু মানসম্মত চিকিৎসা পেতে এখনও নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। একটি সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্যভিত্তিক জরিপে দেখা গেছে, যোগ্য রোগীদের মাত্র ৩৫ শতাংশ রেডিয়েশন থেরাপি পান এবং ৪০ শতাংশ কম রোগী নির্ধারিত দুই মাসের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।ডা. জ্যোতিরূপ গোস্বামী, আয়োজক সম্পাদক, বলেন—অর্থাভাব বা আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি একমাত্র সমস্যা নয়, বিদ্যমান যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ চিকিৎসক-প্রযুক্তিবিদ প্রস্তুত করা এবং শক্তিশালী রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলাও জরুরি। ভারতের ক্ষেত্রে গত দুই দশকের দুর্বলতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠলেও রোগীর প্রবেশাধিকার, চিকিৎসা প্রাপ্তির সমতা এবং অপেক্ষার সময়ের ওপর আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।সম্মেলনের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল বৃহৎ মেডিক্যাল এক্সিবিশন, যেখানে রেডিয়েশন অনকোলজির সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভের পাশাপাশি ভবিষ্যতের ক্যানসার কেয়ার প্রযুক্তির দিকনির্দেশনাও জানতে পারেন। এআরওআইকন ২০২৫ কলকাতাকে আবারও ভারতের অন্যতম প্রধান মেডিক্যাল কনফারেন্স হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল।









