আরজি কর-কাণ্ডে ৮ আগস্ট রাত জাগার ডাক

rgkar-e1574258658481-1-jpg-1723900570677_1723900570984-1200x675

আরজি করে চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে ৮ আগস্ট। আর ওই দিনই রাত জাগা কর্মসূচির ডাক দিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে কর্মসূচির কথা ঘোষণা করে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস’ ফ্রন্ট’।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৮ আগস্ট রাত ১২টা থেকে পরের দিন ভোর ৪টে পর্যন্ত পথে নামবে তারা। হবে মশাল মিছিল। রাত ১২টায় শ্যামবাজারে জমায়েতের ডাক দিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। তার পরে শ্যামবাজার থেকে কলেজ স্কোয়ার পর্যন্ত মশাল মিছিল করা হবে বলেও জানান তাঁরা। এই কর্মসূচিতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। সাংবাদিক বৈঠকে আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবাশিস হালদার কর্মসূচির কথা জানান। অন্যদিকে ৯ আগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে দলীয় পতাকা ছাড়া সেই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর এই কর্মসূচিতে থাকবেন আরজি করের নির্যাতিতার মা-বাবাও। তবে ৯ আগস্টের নবান্ন অভিযানে থাকবেন না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাত ১২টা থেকে ভোর চারটের মধ্যে আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার রুমে ডাক্তারি ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। পরের দিন মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল তাঁর। সেই ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য তথা গোটা দেশ।বিচারের দাবিতে রাত জেগেছিল গোটা সমাজ। এবার সেই ঘটনার বছর পূর্তিতে ফের রাত জাগা কর্মসূচির ডাক দিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। শুধু ৮ আগস্ট রাতে নয়, পরের দিন ৯ আগস্টও একাধিক কর্মসূচি রয়েছে জুনিয়র ডাক্তারদের। ৯ আগস্ট সকালে রাখিবন্ধন পালন করা হবে। আর বিকেলে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে ‘ক্রাই অফ আওয়ার’-এর সামনে জমায়েত কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। দেবাশিসের কথায়, ‘‘কলেজে কলেজে হুমকি সংস্কৃতির (থ্রেট কালচার) বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা হবে এই জমায়েত থেকে।’’ দেবাশিস হালদার জানান, ‘‘আমরা আবার চিৎকার করব। এখন রাজ্যে গুলিয়ে দেওয়ার রাজনীতি চলছে। তবে আমরা কেউ সে দিনের রাতের কথা ভুলিনি। ভুলব না।’’ শুভেন্দুর ডাকা নবান্ন আভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘দলীয় পতাকা ছাড়া নবান্ন অভিযানের কথা বললেও তা রাজনৈতিক কর্মসূচি বলেই মনে হচ্ছে।’’ দেবাশিসের দাবি, আরজি কাণ্ডে রাজ্য সরকার যেমন দায়ী, তেমনই সিবিআইও দায় অস্বীকার করতে পারে না। এখনও পর্যন্ত তারা অতিরিক্ত চার্জশিট জমা করতে পারল না। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলের এই গাফিলতির দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না বিরোধী দলনেতাও।

About Author

Advertisement