সিতাই ব্লকের ব্রহ্মওরচাত্রা গ্রামে অজানা রোগের প্রাদুর্ভাব

IMG-20250524-WA0259

কোচবিহার: সিতাই ব্লকের ব্রহ্মওরচাত্রা গ্রামে গত প্রায় একমাসে অজানা রোগে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু ও বেশ কিছু গবাদি পশু মৃত্যুর ঘটনায় কোচবিহারে এসেছেন রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই প্রতিনিধি দল কোচবিহার এম জে এন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পরিদর্শন করেন। এদিন ৩ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি কুমার আড়ি, কোচবিহার এম জে এন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। মূলত রোগটি কোনভাবেই যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কতটা প্রস্তুত রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই সমস্ত বিষয় খোঁজখবর নিতে এদিন হাসপাতালে ওই তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করেন বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বুধবারই স্বাস্থ্য দপ্তরের রাজ্য পর্যায়ের তিন সদস্যের ওই প্রতিনিধি দল সিতাইয়ের ব্রহ্মত্তরচাত্রার গ্রামে পৌঁছে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনার সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেন পাশাপাশি একাধিক গবাদি পশু মৃত্যুর কারণ খুঁজতে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলেন। অজানা রোগে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে সব রকম ভাবে সচেতন করার কাজ চালানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। এছাড়াও কোচবিহার এমজেএন হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজে খোলা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড৷ এব্যাপারে আইসোলেশন ওয়ার্ডে পরিকাঠামো দেখতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তিন সদস্য পরিদর্শনে এসেছেন ৷ কোচবিহার এমজেএন হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ নির্মল কুমার মন্ডল জানান, সিতাই এর মৃত্যুর ঘটনায় মৃতদের বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে৷ এদিকে মেডিক্যাল কলেজে খোলা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড৷জানা গেছে সিতাই ব্রহ্মত্তর চাত্রায় এক বাড়িতেই পরপর তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
আক্রান্তদের বাড়ি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সদস্যের প্রতিনিধিদলের সদস্য। কোনো সংক্রমণে এই মৃত্যু কিনা স্বাস্থ্য দপ্তরের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল বাড়ি ও বাড়ি লাগোয়া এলাকায় পরিদর্শন করেছেন। যেখানে ছিলেন একজন ডিরেক্টর, অপর দুজনের মধ্যে একজন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের চিকিৎসক ও অন্য এক মহিলা চিকিৎসক।এছাড়াও ছিলেন স্থানীয় সিতাই ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক রামকৃষ্ণ ঘোষ।উল্লেখ্য, সিতাই ব্লকের ব্রহ্মত্তর চাত্রা গ্রামে এক পরিবারে পরপর তিন সদস্যের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মাত্র ২২ দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের স্বামী ও দুই স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ এপ্রিল প্রথম মৃত্যু হয় ছোট স্ত্রী জয়ন্তী বর্মনের। এরপর ২৫ এপ্রিল মারা যান পরিবারের কর্তা জোনাকু বর্মন। সর্বশেষ ১৪মে প্রাণ হারান বড় স্ত্রী ক্ষীরবালা বর্মন। প্রত্যেকেরই মৃত্যুর আগে দেখা গিয়েছিল জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ।জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ হিমাদ্রি কুমার আরি বলেন- “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। এখনো পর্যন্ত কোনো অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়েনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ইতিমধ্যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট এলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

About Author

Advertisement