মণিপাল হসপিটালস চালু করল অত্যাধুনিক ‘মার্স’

IMG-20251128-WA0067

কলকাতা: মণিপাল হসপিটালস কলকাতা আজ শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করল তাদের মণিপাল অ্যাম্বুলেন্স রেসপন্স সার্ভিস (মার্স) যা পূর্বাঞ্চলের জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মণিপাল হসপিটালস ১৭টি অত্যাধুনিক মণিপাল অ্যাম্বুলেন্সের একটি শক্তিশালী বহর উদ্বোধন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি অ্যাডভান্সড কার্ডিয়াক লাইফ সাপোর্ট (এসিএলএস) ইউনিট এবং ১২টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) ইউনিট। পাশাপাশি, সেই সাথে থাকছে ২০টি কলকাতা অ্যাক্সিডেন্ট রেসপন্স অ্যান্ড মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (কর্মা) অ্যাম্বুলেন্স, যা কলকাতা পুলিশ ও মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস-এর যৌথ অংশীদারত্বে পরিচালিত হয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের বিশেষায়িত জরুরি সহায়তা ও গোল্ডেন-আওয়ার ইন্টারভেনশন প্রদান করে।
মণিপাল হসপিটালস বর্তমানে তাদের নেটওয়ার্ক জুড়ে ১০০-রও বেশি মার্স অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা করছে, যা প্রতিদিন ৫০০-রও বেশি জরুরি কলের সাড়া দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের একাধিক শীর্ষকর্তা – শ্রী মুকেশ, আইপিএস, পুলিশ কমিশনার, বিধাননগর কমিশনারেট; শ্রী রূপেশ কুমার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক), কলকাতা পুলিশ; শ্রী ইয়েলওয়াড শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও, আইপিএস, ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক), কলকাতা পুলিশ; ও শ্রী নির্মা নর্বু ভুটিয়া, ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক), বিধাননগর সিটি পুলিশ।
মণিপাল হসপিটালস-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ড. মেবেল ভাসনাইক, চেয়ারপার্সন ও প্রধান, ইমার্জেন্সি মেডিসিন, মণিপাল হসপিটালস বেঙ্গালুরু এবং ২০১৪ সাল থেকে মার্স উদ্যোগের মূল সহযোগী; মি. মধুর গোপাল, ভাইস প্রেসিডেন্ট – মার্কেটিং, মণিপাল হেলথ এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড, ড. ইন্দ্রনীল দাস, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও প্রধান – অ্যাক্সিডেন্ট ও ইমার্জেন্সি কেয়ার, ড. কিশেন গোয়েল, কনসালট্যান্ট ও প্রধান – ইমার্জেন্সি, ড. সুজয় দাশ ঠাকুর, কনসালট্যান্ট ও ইন-চার্জ – ইমার্জেন্সি মেডিসিন, এবং ড. অয়নাভ দেবগুপ্ত, রিজিওনাল সিওও, মণিপাল হসপিটালস ইস্ট।
মার্স হল মণিপালের ফ্ল্যাগশিপ প্রিহসপিটাল ইমার্জেন্সি কেয়ার প্রোগ্রাম, যা আঘাতের পর প্রথম ‘স্বর্ণালী ঘণ্টা’-তেই পূর্ণাঙ্গ প্রিহসপিটাল ইন্টারভেনশন নিশ্চিত করে। দেশজুড়ে মণিপাল হসপিটালস-এর অ্যাম্বুলেন্স বহর একাধিক আধুনিক লাইফ-সেভিং সরঞ্জামে সজ্জিত—যার মধ্যে রয়েছে ইসিজি মেশিন, ভেন্টিলেটর, ডিফিব্রিলেটর, মাল্টি-প্যারামিটার মনিটরিং সিস্টেম, সিরিঞ্জ পাম্প এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রিটিক্যাল কেয়ার যন্ত্রপাতি, যা রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রাথমিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
প্রতিটি মার্স জরুরি কল প্রশিক্ষিত ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম দ্বারা ট্রায়াজ করা হয়, এবং তথ্যের ভিত্তিতে নিকটতম অ্যাম্বুলেন্সকে পাঠানো হয়। জীবনহানি বা গুরুতর অক্ষমতার ঝুঁকি থাকলে কলটি ২৪/৭ অন-কল জরুরি চিকিৎসকের কাছে এস্কেলেট করা হয়, যিনি হাসপাতালে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রতিটি মার্স ড্রাইভার বিএলএস-সার্টিফাইড এবং প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে দুইজন ইএমটি উপস্থিত থাকেন, যারা প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্টেবিলাইজেশন নিশ্চিত করেন এবং এএলএস
-সার্টিফাইড চিকিৎসকদের সাথে লাইভ ক্লিনিকাল আপডেট শেয়ার করেন। ফলে জরুরি কল থেকে হাসপাতালে পৌঁছানো পর্যন্ত রোগীকে ধারাবাহিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়, যা গত ২৫ বছর ধরে জরুরি পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মণিপালের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।
কলকাতা শহরের ভেতরে গুরুতর বা জীবন-সংশয়ী পরিস্থিতিতে যেসব রোগী মণিপাল হসপিটালস-এর যেকোনো ইউনিটে ভর্তি হতে মার্স অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করবেন, তারা বিনামূল্যে হাসপাতাল পর্যন্ত পরিবহণ সুবিধা পাবেন।
ড. ইন্দ্রনীল দাস বলেন, “ভারতে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ার ফলে বহু রোগীর অবনতি দেখা যায়—বিশেষ করে হৃদ্‌রোগ সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে। কলকাতায় হার্ট অ্যাটাক এবং নিউরোলজিকাল ইমার্জেন্সি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্স-এর সূচনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমাদের কেন্দ্রীকৃত মনিটরিং ও দ্রুত ডিপ্লয়মেন্ট পদ্ধতি প্রতিক্রিয়ার সময় কমিয়ে এনে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক রোগীদের বাঁচার সম্ভাবনা বাড়াতে সাহায্য করবে।”
ড. কিশেন গোয়েল বলেন, “ইমার্জেন্সি চিকিৎসায় প্রতি মিনিট সাশ্রয় করা মানে রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা ১০% পর্যন্ত বাড়ানো। কলকাতার বড় চ্যালেঞ্জ ছিল হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসা শুরু করা না হওয়া। মার্স এই ফাঁক পূরণ করছে। উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত ইমার্জেন্সি বিশেষজ্ঞরা অ্যাম্বুলেন্সেই চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। এটি শহরের ইমার্জেন্সি রেসপন্স ব্যবস্থার জন্য এক বড় পরিবর্তন।”
ড. সুজয় দাশ ঠাকুর বলেন, “শহরে ট্রমা ও সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়মতো প্রিহসপিটাল কেয়ার প্রায় ২৫–৩০% মৃত্যুহার কমাতে পারে। ১৬টি মণিপাল অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ৪০টি কর্মা অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হওয়ায় পূর্ব ভারতে এটি এখন সবচেয়ে শক্তিশালী ইমার্জেন্সি রেসপন্স নেটওয়ার্কগুলির একটি।”
উদ্বোধন সম্পর্কে ড. অয়নাভ দেবগুপ্ত বলেন, “আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে দ্রুত প্রিহসপিটাল ইন্টারভেনশন মৃত্যুহার ৪০% পর্যন্ত কমাতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিট দেরি হলে বাঁচার সম্ভাবনা ৭–১০% কমে যায়। তাই জরুরি রেসপন্সের গতি বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্স-এর সূচনা আমাদের জরুরি পরিষেবাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এবং আরও বেশি প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করবে।”
মার্স সম্পূর্ণরূপে চালু হওয়ার ফলে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট এখন পূর্ব ভারতের জরুরি পরিষেবাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে প্রস্তুত—যেখানে চিকিৎসা আর হাসপাতালের দরজায় নয়, জরুরি কল করার মুহূর্ত থেকেই শুরু হবে।

About Author

[DISPLAY_ULTIMATE_SOCIAL_ICONS]

Advertisement