জলপাইগুড়ি : মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে রাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ভদ্রেশ্বর মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এ বছর শিবপুজো ও চার দিনব্যাপী ঐতিহাসিক মেলা ৭৫ বছরে পদার্পণ করায় উৎসবের আবহে যোগ হয়েছে বিশেষ মাত্রা। স্বাভাবিকভাবেই আয়োজক ও ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। রাজগঞ্জের কালীনগর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথা ও আঞ্চলিক বিশ্বাস। দীর্ঘদিন ধরে শিব চতুর্থী তিথিকে কেন্দ্র করে এখানে শিবপুজো ও বৃহৎ মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। এবছর ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে চার দিনের এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।ইতিমধ্যেই মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন মেলা প্রাঙ্গণ সাজসজ্জায় সেজে উঠছে। আলোকসজ্জা, অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা মেলা মাঠে পসরা সাজাতে শুরু করেছেন। নাগরদোলা, খেলনার দোকান, জলপরী, মিষ্টির স্টল ও নানাবিধ গৃহস্থালির সামগ্রীর সমাহারে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে গোটা এলাকা।রাজগঞ্জ ব্লক ছাড়াও জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার ভক্ত শিবদর্শন ও পুজো দিতে এখানে সমবেত হন। আয়োজকদের আশা, প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী বর্ষে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কয়েক হাজার মানুষের সমাগমে মুখরিত হবে ভদ্রেশ্বর মন্দির প্রাঙ্গণ।ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও চাঙ্গাভাব আসে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে মহাশিবরাত্রিকে ঘিরে রাজগঞ্জে এখন উৎসবের আমেজ—ভক্তি, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির এক মিলনমেলা।








